ভারতের সঙ্গে যখন বাংলাদেশের চাপানউতোর চলছে, সেইসময় মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করলেন পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। রবিবার পাক হাইকমিশনারের এই সাক্ষাৎ মোটেই সৌজন্যমূলক ছিল না, সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। বলা হচ্ছে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বিমান চলাচলে সহযোগিতা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার কথাও হয়েছে ওই বৈঠকে। কিন্তু ভিতরের খবর অন্য। সেটা হল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে হতে চলা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তা নিয়েই তদ্বির করতে এসেছিলেন পাক হাইকমিশনার। জানা যাচ্ছে, ওই প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়া নিয়ে বিএনপি প্রবল আপত্তি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপও রয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এসেছে। এখানে উল্লেথ করা যেতে পারে, পাক হাইকমিশনার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপ প্রধানমন্ত্রী ইসাক দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে বড় ধরনের ‘আইস-ব্রেকিং অগ্রগতি’ হয়েছে। তবুও কি ডিফেন্স ডিল বা প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে? এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।
সোমবারই দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জরুরি তলব করা হয় ঢাকায়। সোমবার রাতেই তিনি ঢাকা পৌঁছে যান বলে খবর। পাক হাইকমিশনারের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ, পাক উপ প্রধানমন্ত্রী ইসাক দারের ঢাকা স্তুতি এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ঢাকায় তলব করা কূটনৈতিক মহলে রীতিমতো জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে স্বদেশে তলব অন্য মাত্রা দিচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান বাংলাদেশের আটটি এয়ারবেস, চারটি বন্দর ও ১২টি স্থলবন্দরের ব্যবহার করতে পারবে যে কোনও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে। এখন বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান কার্যত ভারত কেন্দ্রীক। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সাড়ে তিন দিক ভারত দ্বারা বেষ্টিত। ফলে এই চুক্তি হওয়া মানেই ভারতের জন্য বিপজ্জনক। খুব স্বভাবতই ভারতীয় গোয়েন্দা সুত্র মারফত এই খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসে নয়া দিল্লি। একদিকে যেমন, তারেক রহমানকে চাপ দেওয়া হয়, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েও চাপ দেওয়ানো হয়। ডোভাল-জয়শঙ্কর জুটি কার্যত বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় কূটনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বেঁকে বসে, বিএনপিও ফোঁস করে ওঠে। ফলে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় ইউনূস সরকার। জানা যাচ্ছে, তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি আপাতত স্থগিত রাখা হবে। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
মুহাম্মদ ইউনূস এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই আসরে নামে জামায়তে ইসলামী। অন্যদিকে পাকিস্তানও একের পর চাল চালতে শুরু করে। পাক হাইকমিশনার ছুটে যান মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। জামাতের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জানা যাচ্ছে, জামাতের প্রতিনিধি দল ইউনূস ও কয়েকজন উপদেষ্টার সামনে রীতিমতো উগ্র মূর্তি ধারণ করে কার্যত হুমকি দিয়েছে আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার। জামাতের মূল অভিযোগ ছিল, সরকার বিএনপির হয়ে কাজ করছে। এর ফলে নির্বাচন অবাধ হবে না। কিন্তু তাঁদের আরও একটা দাবি ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে ডিফেন্স ডিল দ্রুত রূপায়ন করার। সবমিলিয়ে প্রবল চাপে পড়ে যায় মুহাম্মদ ইউনূস। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই কারণেই ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার হামিদুল্লাহকে তড়িঘড়ি ডেকে পাঠায় ঢাকা। এরপর তিনি হয়তো ঢাকার বার্তা নিয়ে নয়া দিল্লি ফিরবেন। পরিস্থিতি এখন যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে হয় ভারতের সঙ্গে চূরান্ত বিবাদে যাবে ঢাকা, না হয় পাকিস্তানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post