গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার জনবহুল রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান তথা ঢাকা ৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি। জনপ্রিয় এই যুব নেতার উপর হামলা কে বা কারা চালিয়েছিল, কেনই বা হামলা হয় তা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজপথ কম উত্তাল হয়নি। প্রথমে বিএনপি ও পরে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর দিকে আঙ্গুল ওঠানো হয়। যদিও প্রথমে ঢাকা পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করেছিল। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই হাদির মৃত্যুর পর উল্টে গেল পরিস্থিতি। ওসমান হাদির মাথায় গুলি লেগেছিল। তাঁর মস্তিস্কের স্টেম সেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে প্রথমে জানানো হয়েছিল মেডিকেল টিমের তরফে। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এই ধরণের আঘাত যে কোনও মানুষের মৃত্যু হয়। ফলে ওসমান হাদি কিভাবে বেঁচে আছেন, সেটাই অবাক করার বিষয়। সে যাই হোক, ওসমান হাদিকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই তাঁকে তড়িঘড়ি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা। এরপর বাংলাদেশ কিভাবে উত্তাল হয়েছিল, সেটা গোটা বিশ্ব দেখেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হাদির মৃত্যু কি সাজানো নাটক?
ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে যখন ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর তোড়জোড় চলছিল ঠিক তার আগেই তাঁকে ঢাকার মাউন্ট এলিজাভেদ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর ব্রেন ডেথ ঘোষণা করে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেছিলেন বলেই খবর। তারপরও তাঁকে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, এটি কি সত্যিই ন্যায়বিচারের প্রশ্ন, নাকি এর আড়ালে চলছে জামাতের ডার্টি পলিটিক্স? যেমন ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান শরিফ ওসমান হাদির খুনের পর থেকেই প্রতিবাদ আর নৈরাজ্যের আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ। এবার অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের বার্তা, সেদেশে কর্মরত সকল ভারতীয়র ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিল করা হোক। কারণ তাঁদের দাবি হাদির খুনিরা নাকি ভারতে পালিয়ে এসেছে। মজার বিষয় হল, এই দাবি ওঠার ঠিক পরই রবিবার রবিবার ঢাকা পুলিসের পুলিস কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, ওসমান হাদি খুনে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। পাশাপাশি তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে ভারতের পুলিস। তাঁদের দাবি মোতাবেক এই আটক করেছে মেঘালয় পুলিশ। এর আগে দাবি উঠেছিল, কলকাতা পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। মজার বিষয় হল, ঢাকা পুলিসের পুলিস কমিশনার নজরুল ইসলাম অনেকটা সংবাদমাধ্যমের ঢংয়েই বেসরকারিভাবে বা ইনফরমাল ইনফরমেশনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করে বসেন, হাদি হত্যায় দুই আসামীকে নাকি মেঘালয় পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
বাইট – নজরুল ইসলাম, ঢাকা পুলিসের পুলিস কমিশনার (টিসি ০৩.৩০ – ০৩.৩৪) https://www.youtube.com/watch?v=OgWqr8QbQdg
যদিও ইনকিলাব মঞ্চ এবং ঢাকা পুলিশ এই দাবিগুলি করার আগেই আসল বোমাটা ফাটান ওসমান হাদির দাদা শরিফ ওমর হাদি। তিনি এক জনসভায় দাবি করেন, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন ভেস্তে দিতেই শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। তাঁর সরাসরি অভিযোগ ছিল ইউনূস সরকারের দিকেই।
বাইট – শরিফ ওমর হাদি (টিসি ০১.৩৩ – ০২.৩৯)
বোঝাই যাচ্ছে, হাদির বিচারকে ঘিরে উঠে আসা বিস্ফোরক তথ্য, জামাতের রাজনৈতিক কৌশল, এবং এনসিপির বর্তমান সংকটের নেপথ্যে রয়েছে এক ঘোর বাস্তবতা। হাদির উপর গুলি চালনা, তাঁর খুনিদের আজও ধরা না পরা সবই যেন অলক্ষ্যে বলে যাচ্ছে সেই বাস্তবতা। আসলে মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দোসর জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশের নির্বাচনকে অনিশ্চিত করতেই হাদির খুন ও তাঁর মৃত্যু ঘোষণা নিয়ে নাটক করেছে। তবে সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলেছে হাদির দাদা স্বয়ং।












Discussion about this post