বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর নেই। ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর প্রয়ান হয়েছে। তিনি গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর নানা জল্পনা-কল্পনার ঝড় বয়ে গিয়েছে খালেদা জিয়ার ওপর দিয়ে। ডিসেম্বর মাসের প্রথমেই তাঁকে লন্ডনে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। জানানো হয়েছিল তাঁকে নিয়ে যেতে কাতারের আমীর একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছেন। কিন্তু সেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো এসে পৌঁছয়নি। এরমধ্যেই ঘটে গিয়েছিল কয়েকটি ঘটনা। গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে আর লন্ডন উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেটা জানা যাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন, তবে এতদিন তাঁর মৃত্যু সংবাদ চেপে রাখা হয়েছিল।
এমন খবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অন্দরমহলে বহুবার চাউড় হয়েছিল যে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়েছে। ইউনূস সরকারের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় নি। তবে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যা যা ঘটনা বিগত কয়েকদিনে ঘটেছে সেটা কিন্তু যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, প্রথমেই বলা হল বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাঁর একাধিক অঙ্গ সাড়া দিচ্ছে না। তবুও আচমকা জানানো হল তাঁকে লন্ডনে পাঠানো হচ্ছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। এরপরই আমরা দেখলাম তাঁকে দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিলি ঢাকায় এলেন। এটা ৩ ডেসেম্বরের ঘটনা। এর পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ঘটনা হল, এরপরই গল্প পুরো ঘুরে যায়। কাতার থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এল না। খালেদা জিয়ারও আর লন্ডন যাওয়া হল না। তবে এয়ার অ্যাম্বূলেন্স এসেছিল, তবে চিকিৎসকরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের অনুমতি দেননি। পরে আমরা দেখেছি, পুত্রবঁধু জুবেইদা রহমান ঢাকায় আসেন। কয়েকদিন পর তিনি লন্ডন ফিরে যান। তারপরই দেখা গেল তারেক বাংলাদেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিলেন। এবং তিনি সপরিবার ফিরলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে সেই সময় থেকেই কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছিল যে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়েছে। শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। কিন্তু দেকা গেল তারেক রহমানের দেশে ফেরার ৫ দিন পর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হল। এটা পূর্ব পরিকল্পিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এর মধ্যে বহু ঘটনা ঘটে গিয়েছে বাংলাদেশে। যেমন ওসমান হাদির মৃত্যু। গত ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতার মাথায় গুলি লাগে। তাঁকেও এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তিরত করা হয়েছিল। ওই হাসপাতালের নথিই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। যেখনে ওসমান হাদিকে মৃত বলে উল্লেথ করা হয়েছিল। ওসমান হাদির ওই মেডিকেল রিপোর্ট সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অর্থাৎ একটা নোংরা খেলা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেই দাবি করা হয়েছে বহু জায়গা থেকে। বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও যে সেটা হয়নি, তা বলা যাবে না। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর দোসররা বরাবরই চাইছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হোক। তারেক দেশে ফিরেছেন, তবে নির্বাচন পিছিয়ে গেলে ক্ষতি কি? এখন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশে জাতীয় শোক চলবে। আরও নানা ঘটনা ঘটবে। ফলে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়াটা এমন কি ব্যাপার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post