ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে যেমন নব্য বাংলাদেশি ছাত্রদের খুব মাথাব্যাথা, তেমনই ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটা রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্স নিয়ে। হাসনাত আব্দুল্লাহ হোক বা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এই ছাত্র নেতারা এখন ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে। হাসনাত দাবি করেছিলেন রাতারাতি ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল করা হবে, আর মুসাদ্দিক আলীর দাবি, ভারত প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে তাঁদের বাজেটের ৪০ ভাগের এক ভাগ নিয়ে যায়। আমরা যদি তাঁদের অর্থ নেওয়া আটকে দি তাহলে তাঁরা না খেয়ে মরবে। এই নব্য ছাত্র নেতাদের বক্তব্য গুরুত্ব দেওয়ার কথা নয়। তবে দিতে হচ্ছে কারণ তাঁরা সকলেই জামাতপন্থী ও কট্টর মৌলবাদী। এনসিপি যে জামাতের গর্ভ থেকেই জন্মেছিল, সেটা এখন স্পষ্ট। ফলে ভারত চুপ করে বসে নেই। ভারতীয় সেনা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদ নিয়ে যথেষ্টই সচেতন। তাই চিকেন নেক নিয়ে ভারতীয় সেনা পুরোপুরি তৈরি। তবে যেটা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ, সেটা হল ভারতের নীতি পরিবর্তন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারত রক্ষনাত্মক নীতি নিয়ে চলতো, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন সেই নীতি পরিবর্তন করেছেন। আর সেই ইঙ্গিত ভারতীয় সেনার কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী একটি মন্তব্য করেছিলেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের নাম নিয়েই বলেছিলেন, যদি তাঁরা সন্ত্রানবাদের নীতি থেকে সরে না আসে তাহলে তাঁদের ইতিহাস- ভূগোল বদলে দেওয়া হবে।
আপনারা বলতেই পারেন ভারতের সেনাপ্রধান তো পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে কথাগুলি বলেছেন। তাহলে এখানে বাংলাদেশ কোথা থেকে এল? এবার সেই প্রসঙ্গেই আসি। বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের বি টিম। বাংলাদেশের মাটিতেও জঙ্গিবাদ মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। সেখানেও গড়ে উঠেছে একের পর এক জঙ্গি প্রশিক্ষন কেন্দ্র। যা পরিচালনা করছে পাকিস্তানী জঙ্গিরা। বাংলাদেশ থেকেও ভারতে হামলা, নাশকতার ছক কষা চলছে। সম্প্রতি দিল্লি বিস্ফোরণ ও বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার কাণ্ডে এটা প্রমাণিত। ফলে এর পরের অপারেশন সিঁদুর আরও ভয়ানক হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
এই বক্তব্য থেকেই বোঝাই যাচ্ছে ভারতের নীতি কতটা পরিবর্তন হয়েছে। এবার আসি ভারতীয় সেনা চিকেন নেক নিয়ে কি কি করতে পারে। প্রথমেই জানিয়ে রাখি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নানা সমরাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে। নতুন করে তিনটি আর্মি স্টেশন বা গ্যারিশন যেমন চালু করা হয়েছে তেমনই ব্রহ্মস মিসাইল এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা অন্যান্য মিসাইল সিস্টেম বসানো হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের জন্য বসানো হয়েছে এআই নির্ভর ডিজিটাল ওয়াচটাওয়ার ও অত্যাধুনিক সিসমিক সেন্টার। এর মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি ও যে কোনও ধরনের অস্বাভাবিক কম্পন ধরে ফেলবে ভারতীয় সেনা। বাংলাদেশ তো দূরের কথা শিলিগুড়ি করিডোর থেকে চিনকেও টেক্কা দেওয়ার ব্যবস্থা করে ফেলেছে ভারত। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতের সমরসজ্জা অনুযায়ী অনেক বড় পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় সেনা। আসল লক্ষ্য বাংলাদেশের চিকেন নেক। উল্লেখ্য, অসমের প্রধানমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন, ভারতের একটা চিকেন নেক রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের দুটি চিকেন নেক আছে। ভারত সেই দুটি চিকেন নেক কেড়ে নিতেই পারে।
বাইট – হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অসমের মুখ্যমন্ত্রী (টিসি ০৮.০৩ – ০৯.০৫)
তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি তাতে ভারত আধিপত্যবাদ দেখাবে এমন কোনও নিশ্চিয়তা নেই। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনী যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সেটা অনেক কিছুই ইঙ্গিত করে। বাংলাদেশের রংপুর ডিভিশন বা ফেনি করিডোর দখলের জন্য ভারতের প্রস্তুতি যেমন আছে, তেমনই পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখলের পরিকল্পনাও ভারতের রয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আর ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কথাতে তারই ইঙ্গিত রয়েছে।












Discussion about this post