কী এমন হল, যার জন্য জামায়াত আমির শফিকূর তড়িঘড়ি সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন? বৈঠকের কারণ কি এটাই যে তারেক রহমান বাংলাদেশে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন? সবাই তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। সেই বার্তা দিতেই গোপনে সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করলেন শফিকূর রহমান? হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। তাই দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপির ক্ষমতায় আসীন হওয়াটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। সব কিছু আগে থেকেই সাজানো হয়ে গিয়েছে। সেই কালো ছককে সাদা করার প্রকৌশল হল নির্বাচন। মানে যেভাবে কালো টাকাকে সাদা করা হয় একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন তেমনই একটা কৌশল। যে কৌশলের দৌলতে তারেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথকে আরও সুপ্রশস্ত করে দিল বেগম জিয়ার মৃত্যু। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা আবেগ বরাবর কাজ করেছে। বেগম জিয়ার প্রয়াণ হল বলা যেতে পারে ভোটের ঠিক মুখে মুখে। বাংলাদেশে ভোট কিন্তু আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে। হাতে রয়েছে এক মাসের বেশি কিছুটা সময়। ফলে, বাংলাদেশের আসন্ন ভোটে জিয়া হাওয়া নির্বাচনের সব অংককে উল্টে দিতে পারে বলেই মনে করছে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এখন যে প্রশ্নটা সব থেকে বেশি ঘোরাঘুরি করছে, তা হল শফিকূর রহমান কী বার্তা দিতে ক্যান্টনমেন্টে গিয়েছিলেন? তিনি কি এটা ওয়াকারকে জানাতে গিয়েছিলেন যে আগামী ভোটে জামাত এবং জামাতপন্থী দলগুলি একটা ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে তাঁর একটা প্রচ্ছন্ন সমর্থন প্রয়োজন।
বাংলাদেশের নির্বাচন সেনাবাহিনীর কিন্তু আগাগোড়া একটি ভূমিকা রেখে এসেছে। সেটা হল ভোটে কলকাঠি নাড়া। বাংলাদেশের রাজনীতি যখন একটা সন্ধিক্ষণ মুহূর্তে পৌঁছায়, সেই সময় সেনাবাহিনী মাঠে নামে। বাংলাদেশের ইতিহাসই এমন। বলা হচ্ছে দেশের স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে এই সেনাবাহিনী। তারপর তারা একটার পর একটা ঘুঁটি সাজিয়ে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনে। গত বছরের অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী যে একটা বড়ো ভূমিকা নিয়েছিল সেটা এখন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন এটাও স্পষ্ট হতে চলেছে যে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে। তার জন্য তারা আগে থেকে একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত করে নিচ্ছে।
৫ অগাস্ট থেকে জাতীয় রাজনীতিতে বাহিনী পর্দার আড়াল থেকে খেলছিল। এখনও তারা পর্দার আড়ালেই আছে। তবে কিছু কিছু সময় তারা পর্দার আড়াল সরিয়ে প্রকাশ্যে আসে। গত বছর তাদের একবার দেখা গিয়েছিল। ওয়াকারের মুখ থেকে শোনা যায়, তাঁর বাহিনী আর হাসিনার নির্দেশ মানতে নারাজ। তারপর ওয়াকার যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি তাঁর বাহিনীর অর্ধেকের বেশি সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেবেন, তখন তিনি একবার তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাহিনী কিন্তু তারপর থেক নিজেকে গুটিয়ে নেয়। এখন সামনেই যেহেতু নির্বাচন, তাই তারা আবার সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছে। হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, সেটা প্রথম জানান সেনাপ্রধান ওয়াকার। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, এই ক্রান্তিকালে দেশবাসী তথা দেশের সম্পত্তি রক্ষা করার দায়িত্ব তাঁর বাহিনী স্বেচ্ছায় তুলে নিচ্ছে। ওই বিবৃতির পরে পরে সেনাভবনে একটি বৈঠক ডাকেন ওয়াকার। সেই বৈঠকে একটি নাম তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল। তিনি জামাতের আমির শফিকূর রহমান। এবার ক্যান্টমেন্টে ওয়াকারের সঙ্গে দেখা করে শফিকূর রহমান সেই বৃত্তটি সম্পূর্ণ করলেন।












Discussion about this post