অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এই শেষ সময়ে যে সিদ্ধান্ত নিলেন, তার প্রেক্ষিতে এটা বলাই যেতে পারে। গত ১৫-১৬ মাস ধরে তারা যে নাটক করে এসেছেন, এই ঘটনা থেকে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দু’জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ঠিক। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেটি জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
জানা গিয়েছে, তাদের দুজনের কারও কাঙ্খিত আসনে জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নির্বাচনী জোট থেকে ছাড় দেওয়ার সম্মতি জানানো হয়নি। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে এনসিপিতে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি দলের মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন।
একসময় চাউর হয়েছিল মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা এমনটাই জানিয়ে ছিলেন। তবে প্রায় শেষ লগ্নে নির্বাচন থেকে সরে এলেন আলোচিত এই সাবেক উপদেষ্টা। এখন তো শোনা যাচ্ছে অন্য কথা। এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে চলেছে জামায়াত। আর প্রার্থী হচ্ছেন কে সেটা শুনে আরও অবাক হয়ে যাবে। এই কেন্দ্রের টিকিট তুলে দেওয়া হচ্ছে মাহফুজ আলমের ভাই মাহবুব আলমের হাতে।
তবে এটি এখনও চূড়ান্ত নয়। অন্যদিকে ঢাকা ১০ কেন্দ্রে কুমিল্লি – ৩ কেন্দ্রে মনোনয়ন নিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। এ ছাড়া ঢাকা- ১২ আসনে গণঅধিকার তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সমীকণ না মেলায় তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিবর্তে এনসিপিতে যোগ দেন। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এনসিপির তরফে বলা হয়েছে, জামাত যেন আসিফকে ঢাকা-১০ আসন ছেড়ে দেয়। রবিবার রাত পর্যন্ত তারা চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। তবে জামাতের তরফে কোনও সাড়া দেওয়া হয়নি। তবে অন্দরমহলে শোনা যাচ্ছে, সাবেক উপদেষ্টাদের প্রার্থী করলে একটা ভুল বার্তা যাবে। আর সেই বার্তাটি হল সরকারের মদদপুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি শক্তির বিরোধিতার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেটা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।
এই দুই সাবেক উপদেষ্টা ছাড়া বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল। আসিফ ঢাকা -১০ বা কুমিল্লা-৩ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলেন বাতাসে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিএনপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, তারাও শেষ পর্যন্ত মাহফুজ-আসিফকে প্রার্থী করতে রাজি হয়নি। মনোনয়নপত্র জমা করার শেষ দিন গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। শেষ মুহুর্তে তিনি সেটিও জমা দেননি। ফলে, ফেব্রুয়ারির ভোটে তাঁকে দেখা যে যাচ্ছে না, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হবে ১০০। তাঁরা নির্বাচিত হবেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর পদ্ধতিতে)। কোনো রাজনৈতিক দল ন্যূনতম এক শতাংশ ভোট পেলেই উচ্চকক্ষে আসন পাবে। অর্থাৎ এক শতাংশ ভোট পেলেই উচ্চকক্ষের একশটি আসনের মধ্যে একটি আসন পাবে ওই রাজনৈতিক দল। এক্ষেত্রে, ওই দলটি নিম্নকক্ষে কোনো আসন যদি জিততে ব্যর্থও হয়, তা উচ্চকক্ষে কোনো বাধা তৈরি করবে না।
গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে একটি উচ্চকক্ষ-সংক্রান্ত। প্রশ্নটি হবে সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। এ বিষয়ে হ্যাঁ/না ভোট দেবেন নাগরিকরা।












Discussion about this post