এক অগ্নিকাণ্ড অসংখ্য প্রশ্নের জন্ম দেয়।
প্রথম এবং স্বাভাবিক প্রশ্ন কীভাবে আগুন লাগল? তারপরেই আসে অগ্নিকাণ্ডে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না? এই অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কতটা ক্ষতি হয়েছে? আর সর্বশেষ প্রশ্ন এটা কি নিছকই দুর্ঘটনা? না কি এর সঙ্গে কোনও বড়ো ধরনের নাশকতা জড়িয়ে রয়েছে? আগুন দুর্ঘটনা বশত না কি কেউ এটা ইচ্ছাকৃতভাবে লাগিয়ে দিয়েছে? দিয়ে থাকলে এর পিছনে কার স্বার্থ রয়েছে? এই অগ্নিকাণ্ড থেকে কীভাবে তাদের স্বার্থ পূরণ হবে? এই অগ্নিকাণ্ড পদ্মাপারে। ঘটনা ঘটে গত ২৭ ডিসেম্বর, সকাল ৭টায়। কী হয়েছিল, সেটা বিস্তারিত আকারে তুলে ধরা যাক।
যাত্রী ওঠার আগের মুহূর্তে সেন্ট মার্টিনগামী একটি পর্যটক বোঝাই জাহাজ ‘দ্য আটলান্টিক ক্রজ’-য়ে আগুন লেগে যায়। ঘটনায় জাহাজের এক কর্মচারির মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় জাহাজে ছিলেন ক্রুসহ ১৫ জন। তাদের সকলকেই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আগুন লাগার পর কেটে যায় চার ঘণ্টা। সেই আগুন তখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সেন্ট মার্টিনগামী পর্যটকদের তুলতে জাহাজটি বাঁকখালি নদির বিআইডব্লুটিএ ঘাটে ভেড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে আগুনের সূত্রপাত। মুহুর্তের মধ্যে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা ট্রলার ও স্পিডবোটের সাহায্যে জাহাজের ক্রু সহ ১৫জনকে উদ্ধার করে। স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সকাল ৭টার দিকে পর্যটক তুলতে ঘাটে আসছিল দ্য আটলান্টিক ক্রুজ। হঠাৎ জাহাজের ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন লেলিহান শিখার মতো ছড়িয়ে পড়ে। ’
ঘটনার দিন সকালে ৯টা নাগাদ পরিদর্শনে আসেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ.মান্নান। তিনি বলেন, ‘জাহাজে আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাহাজ মালিকদের নিয়ে বৈঠকে বসা হবে। ’
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে গত চার-পাঁচ মাস ধরে একটি রহস্যজনক খেলা শুরু হয়েছে। হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, সেই সময় আমেরিকা থেকে চাপ আসছিল এই দ্বীপ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। ক্ষমতা থেকে তিনি সরে যাওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রসঙ্গ তোলেন। জানিয়ে দেন, আমরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সে দেশের হাতে তুলে দিলে, তাঁকে ক্ষমতা থেকে চলে যেতে হত না। প্রশ্ন উঠছে, জাহাজে আগুন লাগার ঘটনার সঙ্গে আমেরিকার কোনও সম্পর্ক নেই তো? ইউনূস ক্ষমতায় থাকতে থাকতে এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকাকে উপহার হিসেবে তুলে দিতে চাইছেন না তো?
এই প্রসঙ্গে একটি সাধারণ ঘটনা তুলে ধরা যেতে পারে। ধরা যাক কোনও ঘিঞ্জি এলাকায় বহুতল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার আগে ওই এলাকা জনমানবহীন করে তুলতে হবে। সে ক্ষেত্রে সহজ উপায় হল ওই ঘিঞ্জি এলাকায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া। আগুন লাগলে কারও না কারও মৃত্যু হবেই। আর ভয়ে বাকিরা সেখান থেকে অন্যত্র চলে যাবে।
বলা হচ্ছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ‘দ্য আটলান্টিক ক্রজ’-য়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এরকম ভিতি প্রদর্শনের কৌশল। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সেখানে যেতে না পারে, তার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।












Discussion about this post