আমেরিকার সঙ্গে বর্তমানে যে দেশের সম্পর্ক খারাপের দিকে যাচ্ছে, তাদের উপরই খাড়ার ঘা নেমে আসছে। এইবার কোপে পড়েছে বাংলাদেশের উপর। ট্রাম্পের রণনীতিতে ফাঁপড়ে ইউনূস সরকার। বাংলাদেশীরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভয়াবহ রকমের জামানত দেওয়ার সিস্টেম চালু করেছে। বাংলাদেশ-সহ বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদি কোনও বাংলাদেশী নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিতে চান, তবে ১৫ হাজার ডলার জামানত বন্ড দিতে হবে। অর্থাৎ ২০ লক্ষ টাকার বেশি বন্ড দিতে হবে ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কি মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার পারবে, এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বাঁচিয়ে আনতে?
ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক, তবে অস্বাভাবিক নয়। বলছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর ভিসা বন্ড বা জামানত আরোপের সিদ্ধান্ত দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেন তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। যেসব দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের অনেককেই এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, শুধু বাংলাদেশ নয়। সেই তালিকায় ৩০ টিরও বেশি দেশের নাম রয়েছে। এখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সেই তালিকায় কেন বাংলাদেশের নাম আসবে? পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীরা আমেরিকাতে বসে সরকারের টাকার সাহায্য নেয়। আর সে দেশে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্বরযন্ত্র করছে। এই কারণেই মূলত আমেরিকা এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩৮ টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্তি করেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, আমরা চেষ্টা করবো বিষয়টি কোনদিকে যাচ্ছে! মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। শুরুতে গত বছর অগাষ্ট মাসে ভিসা বন্ড এর শর্ত যুক্ত দেশের তালিকায় ৬টি দেশের নাম যুক্ত ছিল। পরে তারা আরও ৭ দেশের নাম এই তালিকায় আনে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সহ আরও ২৫ টি দেশের নাম নিয়ে আসে। মার্কিন দফতরের প্রকাশিত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলির জন্য কয়েকটি ছাড়া এই বন্ডের শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এই বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সরকার কি কোনও পদক্ষেপ করবে? তখন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এটা সবে হয়েছে। আমরা সাধারণ পদ্ধতিতে যাব। চেষ্টা করবো, যেন এটা থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয় না। তবে এখানেই থেমেন নেই। জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশিদের গণহারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ করে বাংলাদেশের উপর কেন ক্ষিপ্ত আমেরিকা? তবে কি বাংলাদেশ আমেরিকার যে যে চাহিদাগুলো মেটাবে বলেছিল, সেগুলি তারা মেটাতে চাইছে না? সেই কারণেই কি এই সিদ্ধান্ত? পররাষ্ট্র নীতি ঠিক কি হবে, সেটা কোনওভাবে কি ঠিক করতে পারছে না বাংলাদেশের সরকার? প্রশ্ন তো উঠছে। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে, বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে? কারণ যে খাড়ার ঘা নেমে এল, তাতে বাংলদেশের নাগরিক ভুগবে। এখন দেখার, এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার কি করতে পারে!












Discussion about this post