বাংলাদেশের আকাশ কি যুদ্ধের ঘনঘটা? ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত পাক যুদ্ধবিমান কেনার জন্য বাংলাদেশ এত উৎসাহী কেন? বাংলাদেশ ভারতীয় পর্যটকদের ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও এটা তারা করেছে ভারতকে দেখে। ভারত সুনির্দিষ্ট কারণে বাংলাদেশিদের আপাতত ভিসা ইস্যু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে আবার ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এই ব্যাপারে ঢাকার অবস্থান হল – এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের মর্যাদা। তাই, মর্যাদার সঙ্গে তারা কোনওভাবেই সমঝোতা করতে রাজি নয়। প্রশ্ন এখন একটাই – বাংলাদেশ কি ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চলেছে? লড়াইয়ে জড়িয়ে গেলে বাংলাদেশ কি এই লড়াইয়ে টিকতে পারবে? না কি সামনে অপেক্ষা করছে ভয়াবহ পরিণতি?
২০২৪-য়ের অগাস্টে হাসিনা ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক মধুর থেকে মধুরতর হয়েছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে পাকিস্তান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর বৈঠক হয়েছে। বৈঠক হয় ইসলামাবাদে। বৈঠকে দুই বায়ুসেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিমানবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা, প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি।
পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বৈঠক করেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান একটি উচ্চস্তরীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানকে তাদের বাহিনীতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়ে অবগত করেন। তবে এই বৈঠকের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বাংলাদেশ পাকিস্তানের থেকে জেএফ ১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে। এই বিমানটি যৌথভাবে তৈরি করেছে চিন এবং পাকিস্তান। এটি ৪.৫ প্রজন্মের একটি মাল্টিরোল ফাইটার জেট। এর রেডার ভারতের আকাশ নজরদারিতে সক্ষম। এর ক্ষেপণাস্ত্র দূর থেকে আঘাত হানতে সক্ষম। এই যুদ্ধবিমানের সামরিক ওয়ারফেয়ার শত্রুর রেডার ফাঁকি দিতে পারে। পাকিস্তানের দাবি, এই বিমান দিয়ে তারা ভারতের MIG – 29 যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে। বাংলাদেশ এই মুহূর্তে আধুনিক হাতিয়ার ও ফাইটার জেটের খোঁজ করছে। আর সেই লক্ষ্যেই ভারতের সঙ্গে শত্রুতা বাড়িয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জোট বাঁধছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে কটা যুদ্ধবিমান ঢাকাকে তারা বিক্রি করবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু স্পষ্ট জানা যায়নি।
প্রশ্ন হল, ভারত এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে? সাউথব্লক জানিয়ে দিয়েছে, তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এই নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বা জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন সব পরিস্থিতির ওপর আমরা গভীরভাবে নজর রাখছি।’ সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা-করাচি বিমান পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। সেই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই ধরনের বিষয়গুলি বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বিমান পরিষেবা চুক্তি অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে। প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশ সংখ্যালঘু নিধন ও নিপী়ড়ন নিয়েও। সেই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রটি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বারবার হামলার একটি উদ্বেগজনক ধারা প্রত্যক্ষ করছি। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো দ্রুত এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা দরকার। ’












Discussion about this post