বাংলাদেশে ডাকসু, যাকসু নির্বাচনে জামায়েত ই ইসলামীর ফলাফল দেশে অনেকেই অনুমান করেছিলেন, হয়ত জামায়ত ই ইসলামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবে। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষে এসে ধারণাটা পাল্টালো। কারণ নানা রকম আলোচনা হয়। বিশেষ করে যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানারকম বক্তব্য দিতে থাকে এই দল। এরপর দেখা গেল এনসিপির সঙ্গে জোট করেছে জামায়েত ই ইসলামী। ফলে এখন অনেকেই বলছেন, এই জোট হয়তো খানিকটা ক্ষতি করেছে জামায়েত ই ইসলামীর। অন্যদিকে জামাত এবং ইসলামী আন্দোলনের এক ধরনের আসন নিয়ে রেষারেষি। কোনওভাবেই সমঝোতা হচ্ছে না। অনেকে বলছেন, এই জোট নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। কার্যত নাও টিকতে পারে। আদতে কি চলছে, চলুন আলোচনা করা যাক। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিবাস্বপ্ন যে দেখেছিলেন নাহিদ ইসলাম, সেটি কি শেষ হয়ে গেল?
ইসলামী আন্দোলন এবং জামাতের মধ্যে একটি স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। অনেক আসনে জামায়ত এর গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি রয়েছে, ইসলামী আন্দোলনেরও গুরুত্বপুর্ণ নেতা রয়েছে। তাদের মতে ইসলামী আন্দোলন মনে করে, শতাধিক আসনে তাদের ভালো রেজাল্ট করার ক্ষমতা রয়েছে। তাদের প্রত্যাশাও তাই। ১২০ টি আসন তাদের প্রত্যাশা। এদিকে জামাত দিতে চায় ৪০ টি। যে চাওয়ার এখনও পর্যন্ত কোনও পরিবর্তন হয়নি। এদিকে আবার মনোনয়ন পত্র তুলে নেওয়ার শেষ তারিখ ২০। আদেও এর আগে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হবে? এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, ১২ তারিখের মধ্যে এই ঘোষণা আসবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ঘোষণা আসেনি। এই বিষয়গুলি নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। মনোনয়ন নিয়ে জামাত ইসলামীর দূরত্ব। আসলে জোট কি থাকবে? এই প্রশ্নই এখন সবথেকে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র একমাস বাকি রয়েছে। এইবারের নির্বাচনে বিএনপি এবং জামাতকে ঘিরে দুটি জোট ভোটার ময়দানে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সমস্ত জোট প্রায় সমস্ত আসন চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তখন জামাত জোট ঘিরে টানাপোড়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখনো মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়নি জামাত নেতৃত্বাধীন ১১ জোটের দল। এটা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, এই জোট না টেকার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়েত ইসলামীর নেতারা বলছেন, শিগ্রি সমঝোতা হয়ে যাবে। তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেছেন, ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকে বলছেন, এই জোটের মধ্যে অনেক সমস্যা রয়েছে। যেগুলি নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আদেও এই জোট বাস্তবায়িত হবে কিনা শেষ পর্যন্ত! ৫ই অগাস্টের পর পরিবর্তিত রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জামাত যেমন বিএনপি ছেড়ে ভোটের রাজনীতিতে তেমনই ইসলামী আন্দোলনও ভোটের মাঝে সুবিধা নেওয়ার জন্য জামাতের সঙ্গে জোটের সম্পর্ক তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এই দলগুলি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায় এবং জোটে থেকে তারা লড়াই করতে চায়। কিন্তু নিচু স্তরে সেই সমঝোতা হচ্ছে না। ফলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। জামাত ইতিমধ্যেই ২৭৬ টি, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮ টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪ টি, এনসিপি ৪৭, এবি পার্টি ৫৩ টি মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে। যেখানে থেকে জামাত চাইছে, ১৯০ টি আসন অন্তত রেখে ১১০ টি আসন জোটকে দিতে। সেখানে ইসলামী আন্দোলনকে তারা মাত্র ৪০ টি আসন দিতে চায়। কিন্তু তারা সেটি রাজি নয়। আর সেখান থেকে তাদের এই সমস্যা। অন্যদিকে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, বা বিরোধী দলীয় নেতা হবেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকে বলছেন, যেভাবে জামায়েত ই ইসলামীর আসন রয়েছে, তাতে জিতলে জামায়েতের আমির প্রধানমন্ত্রী হবেন বা যদি বিরোধী দলে যান তাতে তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হবে। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্থাৎ নাহিদ ইসলামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সমীকরণ বদলে গেল। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post