মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। যে খবর ছবি-সহ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে। তাঁদের বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। এর আগে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ দিনের সফর শেষে ফিরে এসেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে তার পরই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছিল যে আওয়ামী লীগ যদি তাঁদের অপশাসনের জন্য ক্ষমা চায় তবে তাঁরা তাঁদের নির্বাচনে পুনরায় প্রবেশের পথ প্রশস্ত করতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি বা এনসিপির নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার প্রচেষ্টাকে দূরে ঠেলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি উভয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং নির্বাচন নিয়ে আলোচনা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ হসে মনে করছেন রাডনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
জানা যাচ্ছে এই সাক্ষাতে দুই মার্কিন কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য যেমন প্রশংসা করেছেন. তেমনই তারা জানতে চান, বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কিনা? এক জবাবে মুহাম্মদ ইউনূস আওয়ামী লীগের নাম না নিয়েই বলেছেন, সময় এখনো উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন কেউ স্বীকার করে যে সে ভুল করেছে, নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়, অনুশোচনা প্রকাশ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো অনুশোচনা নেই, কোনো অনুতাপ নেই। ইউনূসের কথায়, বরং তারা দাবি করছে যে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে। তাদের অপরাধের বিপুল পরিমাণে প্রমাণ রয়েছে। তারা যা করেছে তা সম্পূর্ণ বর্বরোচিত অপরাধ তবু তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানেই রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুহাম্মদ ইউনূস নিজের জায়গা থেকে কিছুটা হলেও সরে এসেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে এখনও অনড়, তবে একটা হলেও শর্ত চাপালেন। অনেকেই মনে করছেন, এটা হয়তো একটা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র মুহাম্মদ ইউনূসকে তাঁদের মনোভাব জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন নিয়ে। এবা বল ইউনূসের কোর্টে। যদিও তিনি সুকৌশলে সেই বল এখন শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন কূটনৈতিকদের বলেছেন, কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়। আপাত দৃষ্টিতে এই মন্তব্যের অর্থ হল, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগ ছাড়াই হতে চলেছে। কিন্তু প্রথমে গত সোমবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে বলেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা বাংলাদেশের
নির্বাচনপ্রক্রিয়া ব্যাহত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন এবং তাঁদের পলাতক নেতারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপ হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের। তাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক–সংক্রান্ত আলোচনা, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মতো বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবার আওয়ামী লীগের বিষয়ে চাপ দিতে শুরু করেছে। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে পদার্পণ করেছেন। ফলে এই চাপ আওও বাড়বে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তখন ইউনূসের পক্ষে আর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ধুঁয়ো তুলে এড়িয়ে যাওয়া সহজ হবে না।












Discussion about this post