কিছু মাস আগের কথা। বাংলাদেশের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন। নিজের দেশের মানচিত্র বাড়িয়ে নিয়ে ভারতের কিছুটা অংশ মানচিত্রে ঢুকিয়ে পোস্ট করেছিলেন। যেটা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ডিলিটও করে দেন। এরপর সম্প্রতি দেখা যায়, পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার গভীর সম্পর্ক। যেটা আবার কিছুদিন পর দেখা গেল ১৮০ ডিগ্রি উল্টে গেল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্বেষ বাড়তেই তার সুযোগ যেমন নিয়েছে পাকিস্তান। তেমনই আমেরিকা। এদিকে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। এরপরই হঠাৎই পরিস্থিতি ঘুরে যায়। ভারতের উপর থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসে আমেরিকা। অর্থাৎ ফের আমেরিকা-ভারতের দোস্তি। এরপর আমেরিকা থেকে ভয়াবহ একটি বার্তা এল। আমেরিকার বাণিজ্য অধিদফতর ভারতের নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। সেই মানচিত্রে পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরের অংশ ভারতকে দেখিয়েছে। এবং চীনের একটা বড় অংশ ভারতের সীমানার মধ্যে দেখিয়েছে। অর্থাৎ ভারতের মানচিত্র বড় করে দেখাচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের এমন মনোভাব কেন? পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের নজির যখন দেখা যাচ্ছে, তখন এমন মনোভাব কেন পোষন করছে যুক্তরাষ্ট্র? এদিকে ভারত-আমেরিকা কাছাকাছি আসতেই বাংলাদেশ চিন্তা শুরু করে দিয়েছে। কারণ ইউনূস সরকারের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে। পাকিস্তানও টেনশনে পড়ে গিয়েছে।
ভারতের মানচিত্র বাড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা। বিষয়টি বিশ্বের একাধিক দেশকে অবাক করেছে। অবাক হয়েছে অবশ্যই পাকিস্তান,বাংলাদেশ এবং চিন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত মানচিত্রে কাশ্মীর পুরোটাই ভারতের। ভারতের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য সমঝোতা হয়েছে আমেরিকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জানিয়েছে, ভারতের পণ্য এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে ভারতকে। যেটা আগে ছিল ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালোর দিকে গিয়েছে। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, সেটা অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী। যা নিয়ে চলছে আলোচনা। প্রকাশিত ওই মানচিত্রে পুরো কাশ্মীরকে ভারতের মানচিত্রে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। উল্লেখ করা হচ্ছে, এর আগে প্রকাশিত মানচিত্রে আজাদ কাশ্মীরকে আলাদাভাবে দেখানো হত। কিন্তু এখন সেটা একসঙ্গে দেখা হচ্ছে। অনেকে বলছেন, এটা পাকিস্তানের প্রতি একটি নতুন বার্তা। তবে এখনও পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে প্রকাশ করা মানচিত্র নিয়ে পাকিস্তানের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির….ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এরকম পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মানচিত্র প্রকাশ, ইসলামাবাদের জন্য একটা বড় ধাক্কা। সেটা চিনের জন্যও একটা বড় ধাক্কা। এইভাবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। অনেকে বলছেন, যখন আমেরিকা-ভারত কাছাকাছি আসছে, তখন টেনশনে পড়ে গিয়েছে ইউনূস সরকার। এমনিতেই এই সরকারের মেয়াদ আর এক সপ্তাহ নেই। নিজেদের সেফ এগজিটের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র মাথার উপর থেকে হাত সরিয়ে নেয়, তবে বিপদে পড়ে যাবে উপদেষ্টা-সহ প্রধান উপদেষ্টা। এমনকি পাকিস্তানের মাথার উপরও নেয় আমেরিকার হাত। ফলে ভারত, আমেরিকার দোস্তিতে প্রবল টেনশনে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়!












Discussion about this post