বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে একটি তথ্য। একটি সংগঠনের কোনও সদস্য নেই, কার্যালয় নেই, একজন ব্যক্তি সর্বস্ব। সেই এনজিওতে ১০ হাজার ৫০০ বেশি পর্যবেক্ষক আগামী নির্বাচনে বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তথ্য উঠে এসেছিল ওই প্রতিবেদনে। এরপর নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই পর্যবেক্ষকদের কার্ড বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আদেও কি তাদের বাতিল করা হবে? নাকি বিষয়টি নিয়ে এখনও গড়িমসি আছে? সরকারের প্রেস উইং থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সহকারী প্রেস সচিব জানিয়েছেন, পাশার পর্যবেক্ষকদের কার্ড বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন নির্বাচন কমিশন এমন একটি সংগঠনকে দায়িত্ব দিল? তারা আসলে গোপনে কাদের কাজ করত?
পাশা নামক একটি সংগঠনকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণে পর্যবেক্ষক পাশা নামক এই সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে, তাদের নিবন্ধন ছিল না। পরবর্তীকালে ডিসেম্বরের শেষ দিকে এসে আরও ১৫ টি সংগঠনের নামে নিবন্ধন করে নির্বাচন কমিশন। তারমধ্যে পাশার নাম ছিল। কিন্তু তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ওই সংগঠনকে ১০ হাজার ৫০০ বেশি পর্যবেক্ষক বরাদ্দ করেছে, যেটা রেকর্ড বাংলাদেশে। পাশার নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত। শনিবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদের বরাত দিয়ে এই কথা জানান উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসি সচিবও। তিনি বলেন, পাশা নামে একটি এনজিও ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবে বলে বলেছিল। নির্বাচন কমিশন থেকে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। খোঁজ খবর নিয়ে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত হতে পারেনি। এর জেরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড স্থগিত করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যদি নির্বাচন কমিশন তাদের ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়, তবে কেন তারের পর্যবেক্ষক নেওয়া হল? যদিও জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে কোনও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে অনুসন্ধান জারি রয়েছে।
কিন্তু একটি ব্যক্তি নির্ভর সংগঠনকে কিভাবে বিশ্বাস করল ইসি? জানা যাচ্ছে, ওই সংগঠনটির কোনও কার্যালয় নেই। গ্রামের একটি ছোট্ট ঘরের বাইরে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হয়। শুধু তাই নয়, এটি নামেই সংগঠন। এর কোনও আধিকারিক বা সদস্য নেই। কিন্তু মজার বিষয় হল, বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি সামনে এলে তবেই নির্বাচন কমিশন, বা সরকার ধ্যান দেয়। যে সংগঠনের কোনও সক্ষমতায় নেই, সেই সংগঠনকে কেন বরাদ্দ দেওয়া হল? এর পিছনে কি অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল?
এই বিষয়টি যখন সামনে এসেছে, তখন আরও বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে। বাংলাদেশের আর একটি সংবাদমাধ্যমে লিখছে, প্রশাসনিক ক্যু, এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। অর্থাৎ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ক্যু-এর কথা বলা হচ্ছে। প্রশাসনিক ক্যু করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। সেই চেষ্টার অংশ এই সংগঠন পাশা কিনা, সেটা নিয়েও আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশন হয়তো তাদের কার্ড বিতড়ণ বাতিল করে দেবে, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, নির্বাচনের মতো একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে, যে কোনও ক্ষেত্রে দায়িত্ব দিতে কেন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করে বসল কমিশন? প্রতিটা ক্ষেত্রে একটা প্রশ্নই উঠছে। সেটি হল, আদেও নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হবে তো আগামী বৃহস্পতিবার!












Discussion about this post