এবার কি সত্যিই নির্বাচন, নাকি আগেই লেখা একটি ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা? রাত পোহালেই নির্বাচন হতে চলেছে বাংলাদেশে। তার আগে এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের অন্যতম সংবাদপত্র মানবজমিন একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। যার শিরোনাম “প্রশাসনিক ক্যু এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচন”। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফল কী হতে পারে। কে জিতবে, কে হারবে, এ নিয়ে তো চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ। মানবজমিন এটাও দাবি করছে, ঘরে-বাইরে একই আলোচনা চলছে। কিন্তু আদতে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে দেশে এক অদ্ভুত নীরবতা আর চাপা উত্তেজনা রয়েছে বাংলাদেশে। কারণ, বাইরে বলা হচ্ছে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট, ভেতরে চলছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। বাংলাদেশের ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশের দাবি, এই নির্বাচন নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন এবং তাঁদের অধীনে থাকা নির্বাচন কমিশন, পুলিশ-প্রশাসন, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আনসার-ভিডিপি, পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মিলিয়ে একটা সুপরিকল্পিত নীলনকশা তৈরি করেছে। যা ভোটের ফলাফল যে কোনও সময় পরিবর্তন করা হতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, এটি কি সত্যিই কোনও নির্বাচন হতে যাচ্ছে, নাকি আগে থেকে লেখা একটি স্ক্রিপ্টের ফলাফলের আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হবে? এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে যতগুলি সমীক্ষা বা জরিপ হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে বিএনপি সে দেশের ক্ষমতায় আসতে চলেছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী আশা জাগিয়েও খুব কম আসন পেতে পারে। য়ারি সকাল ৭:৩০ মিনিটে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বাংলাদেশের সাড়ে ১২ কোটি মানুষ গত ১৮ মাস ধরে এই নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। নির্বাচনে ২০০০ জনেরও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে মাত্র ৭৮ জন মহিলা। বাংলাদেশে নির্বাচন সাধারণত সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে একটানা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, ১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেহেতু এবার দুটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, সেহেতু এবারের নির্বাচনে ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে। আবার এবার প্রথমবারের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে। তাই ফলাফল ঘোষণা করতে যে সময় লাগবে, তা আগেভাগেই জানিয়ে রেখেছে তাঁরা। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ভোটের রেজাল্ট পরিবর্তন করে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ আছে কি না অথবা রেজাল্টে কারচুপির সুযোগ আছে কি না?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অনেকে ইতিমধ্যেই দাবি করতে শুলু করেছেন, এর আগেও বাংলাদেশের নির্বাচন পাল্টে দেওয়ার ভুড়ি ভুড়ি নজির রয়েছে বাংলাদেশে। এবারও সেরকম কিছু হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর নির্বাচন কমিশনও কার্যত নিশ্চুপ হয়ে রয়েছে এখনও পর্যন্ত। তাঁদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনও এবার আগেভাগে দাবি করে রেথেছে, যে এবারের ভোট গণনায় পাঁচ থেকে সাতদিন সময় লাগতে পারে। কমিশনের বক্তব্য, তিনশো সংসদীয় আসনের সাধারণ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট ফলাফল আলাদাভাবে গণনা করতে হবে। তাহলে বিষয়টি গিয়ে দাঁড়ালো, যদি দেখা যায় যে ফলাফল উল্টোদিকে যাচ্ছে, তাহলে তা পাল্টে দেওয়া হতেও পারে। যেহেতু এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মহলের নির্বাচনি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি খুবই কম। সেহেতু একটা ক্যু বা ষড়যন্ত্র হলেও হতে পারে। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও একটা ক্যু বা ভিন্নমাত্রার অভ্যুত্থান ঘটলেও ঘটতে পারে।












Discussion about this post