বহু প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে শুরু হল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে শুরু হয়ে চলল ৪ টে পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও অভিযোগ উঠছে ছাপ্পা ভোটের। আবার কোথাও অশান্তির ছবি উঠে আসছে। ককটেল বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠছে। এই সমস্ত ঘটনার দিকে তো নজর রাখছি আমরা প্রতিনিয়ত। তবে আলোচনা চলছে, নির্বাচন শেষে দেশের মসনদ দখল কে করবে? এই নির্বাচনে যে যে দলগুলি অংশগ্রহণ করছে, অন্তত যে যে দলগুলি সবথেকে বেশি চর্চিত, সেই দলগুলোর নেতৃত্ব কি ভাবছেন? কতটা নিশ্চিত তারা নেতার বিষয়ে? পাশাপাশি যে যে দলগুলির জেতার সম্ভাবনার কথা বারবার বলা হচ্ছে, তারা কি আদেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্যান্ডিডেট খুঁজে পেয়েছে?
বিএনপির প্রত্যেককেই জানে, তারেক রহমানের দল জিতলে তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বাকি দলগুলির ক্ষেত্রে কি ভাষ্য? অন্যান্য দলের প্রধানরা কি বলছেন এই মুহূর্তে? চলুন আলোচনা করা যাক। নির্বাচন তো শেষ হল। কিন্তু দলীয় প্রধানরা কে, কোন আসনে নির্বাচন করছেন? সেই আসনটা ঠিক কতটা নিরাপদ তাদের জন্য? এতদিন পর্যন্ত যা যা আলোচনা হয়েছে, তারমধ্যে বিএনপির দলীয় প্রধান তারেক রহমান একদমই নিশ্চিত, তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপি জিতলে। তিনি অন্তত দুইটি আসনের মধ্যে একটিতে জয়লাভ করবেন। সেটা বগুড়া ৬ আসন। এই আসনটি খালেদা জিয়ার নিজস্ব আসন। এই আসনের ধারে কাছে কেউ থাকবে না সেটা নিশ্চিত। তাঁর আর একটি আসন রয়েছে ঢাকা ১৭। ঢাকা ১৭ আসনে যারা যারা তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের কি জিতে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে? তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছেন জামায়াতের খালদাজুম্মান। বিএনপি এখনও পর্যন্ত যেটুকু প্রচার করেছে, সেখানে স্পষ্ট ওই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। এই খালেদুজ্জামান কিভাবে আলোচনায় এলেন? জানা যাচ্ছে, কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর সেনা সদরে গিয়ে যে বিতর্কিত কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, সেই ভিডিওটা ভাইরাল হতেই তিনি আলোচনায় উঠে আসেন। এই ভিডিওতে দেখা যায়, খালেদুজ্জামান সেনাবাহিনীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন। গালাগালি দিচ্ছেন। অর্থাৎ এটি নেতিবাচক কান্ড ঘটিয়ে তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন। সেই প্রার্থী আদেও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থেকে জয়ী হতে পারেন কিনা তা নিয়ে সন্ধিহান রয়েছে ওয়াকিবহুল মহলের।
এদিকে বগুড়া ৬ আসনে জামাতের বগুড়া সহ শাখার আমির আবেদুর রহমান দাঁড়িপাল্লায় দাঁড়িয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখার আবু রহমান মহম্মদ মামুনুর রশিদ..
এই দুজন ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই দুটি প্রার্থী সেখানে যে জয়ী হতে পারবে না, সেটা প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে জামাতে ইসলামী প্রার্থীর বিতর্কিত কাণ্ড কারখানার জন্য বলা যেতে পারে, তারেক রহমান এই আসনটি জিততে পারবেন। অন্যদিকে জামায়াতের দিকে তাকালে লক্ষ্য করা যায়,যে বা যারা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য শফিকুর রহমান। অন্যদিকে নাহিদ ইসলাম। ডক্টর শফিকুর রহমানের আসনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী মিল্টন। তিনি ঢাকা ১৫ তে যথেষ্ট জনপ্রিয়। তার জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি, যে শফিকুর রহমানকে এই আসনে জিততে বেশ বেগ পেতে হবে। এর আগে এই আসনটিতে তিন তিনবার দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সুবিধা করতে পারেননি।
এইবার আসি নাহিদ ইসলামের বিষয়ে। তিনি এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি ঢাকা ১১ আসনে দাঁড়িয়েছেন। তিনিও একজন প্রধানমন্ত্রী ক্যান্ডিডেট। ওই আসনে বিএনপির তরফে প্রার্থী সাবেক কমিশনার ড, এ এন কায়ু। তিনিও যথেষ্ট জনপ্রিয় নেতা। তাকে ঠেকানো নাহিদ ইসলামের প্রতি অত্যন্ত কঠিন।
এর মধ্যে আরও একটি আলোচনা বিষয় হল, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা যদি এই নির্বাচনে ভোট দিয়েও থাকে, তবে তারা ধানের শীষ কিংবা দাঁড়িপাল্লাতে ভোট দিতে পারে। কিন্তু শাপলা ফুলে অর্থাৎ এনসিপিতে কখনওই ভোট দেবে না। স্বাভাবিকভাবেই জামায়েতে ইসলামিকে বাছবে না আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। অর্থাৎ এনসিপির ঝুঁলিতে ভোট আসা অত্যন্ত কঠিন। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। যিনি পটুয়াখালী ৩ আসন থেকে বিএনপির জোটের হয়ে তার প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মাহমুদ। নুরুল হক নুর যে ওই আসনে সুবিধা করতে পারবে না সেটা কিছুদিন আগেই পরিষ্কার হয়েছে। কারণ তিনি অভিযোগ আনছিলেন, হাসান মাহমুদের দল তাকে নানাভাবে আটকানো চেষ্টা করেছে। এই আসনে জামাতের প্রভাব নেই বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে ফয়জুল করিমের বিপরীতে রয়েছে মুজিবর রহমান সরোয়ার আবার বিএনপির প্রার্থী। যিনি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী। যেটুকু আমরা আলোচনা করলাম, তারমধ্যে জামায়েত ও বিএনপির মধ্যে একমাত্র তারেক রহমান ছাড়া কোনও দলীয় প্রধানরই জয়ী হয়ে সংসদে যাওয়াটা কঠিন। এরমধ্যে তারেক রহমানের পরে যেটি মোটামুটি নিশ্চিত, সেটি হল জামায়াতের আমিরের আসনটা। তবে সেখানেও বিএনপির থাবা বসতে পারে।
অন্যদিকে, যদি এটা হয় যে, জামাইদের আমির বা নাহিদ ইসলাম কেউই জিততে পারলেন না, কিন্তু ১৫১ টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠ তা নিয়ে যদি জামায়াতে ইসলামী জেতে তাহলে তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? সেটা একটা বড় প্রশ্ন। কারণ বিএনপির এক্ষেত্রে নিশ্চিত। অনেকে বলছেন, কোনওভাবে জামায়েত ইসলামি জিতে যায়, তবে প্রধানমন্ত্রীত্ব কে হবেন সেটা নিয়ে দ্বন্দ্ব হতে পারে।












Discussion about this post