ANC + VO – নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশে পরবর্তী সরকার গড়ছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী পদে খালেদাপুত্র তারেক রহমান কার্যত পাকা। কিন্তু শপথগ্রহণ এখনই হচ্ছে না। নেপথ্যে এক গভীর সাংবিধানিক সংকট। আর সেটা যে হবে তা আগেভাগেই জানা ছিল। তবে বাংলাদেশের সংবিধানকেই কার্যত অস্বীকার করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তরবর্তীকালীন সরকার দেড় বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় বসে ছিল। সেই সংবিধানকেই পাল্টে ফেলতে এবার গণভোটের ব্যবস্থা হয়েছিল। সেই সংবিধানই এখন কাঁটা হয়ে বিধছে তারেক রহমানের গলায়। তবে বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র প্রথম আলো দাবি করছে, সংবিধানের ফাঁক গলে আগামী সোম অথবা মঙ্গলবার শপথ নিতে পারেন নবনির্বাচিত সাংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভা। তবে জটিলতা আরও অনেক বিষয়ে থেকেই যাবে। যা ভবিষ্যতের জন্য অন্য আইনি সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
মূল যে প্রশ্নে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা হল, কে করাবেন শপথ পাঠ? মূলত এই সাংবিধানিক প্রশ্নেই আটকে রয়েছে তারেক রহমানদের শপথগ্রহণ। বাংলাদেশ সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। এরমধ্যে শুক্রবার ২৯৭টি আসনের ফলাফল বেসরকারি ভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। দুটি আসন নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকায় সেখানে ফলাফল জানানো হয়নি। ফলে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সাংসদ শপথ নিতে চলেছেন। কিন্তু তাঁদের শপথবাক্য কে পাঠ করাবেন? বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এই কাজটি করান স্পিকার। কিন্তু গণঅভ্যেউত্থানের পর দ্বাদশ সংসদ আগেই ভেঙে দিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। এছাড়া স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করার পর থেকে পলাতক। আবার ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু জেলবন্দি। নিয়ম বলছে, স্পিকার বা তাঁর মনোনীত কেউ নতুন সাংসদ ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। কিন্তু দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করার আগে কাউকে মনোনিত করে যাননি। ফলে সৃষ্টি হয়েছে সাংবিধানিক সংকট। যদিও বাংলাদেশ সংবিধানে একটি বিকল্প উপায়ও বলা আছে। তা হল, স্পিকার বা তাঁর মনোনীত কেউ উপস্থিত না থাকলে শপথপাঠ করাতে পারেন দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আপাতত এটাই হতে চলেছে। কিন্তু এর জন্য গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশের পর থেকে ৭২ ঘন্টা বা তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। শুক্রবার রাতে সেই গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। সেই অর্থে সোম বা মঙ্গলবার হতে পারে শপথগ্রহণ। এই আবহে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়ে দিয়েছেন, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হয়ে যাবে। এর পর যাবে না।
এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিন হয়তো শপথবাক্য পাঠ করাবেন। কিন্তু আরও একটি বড় বিষয় রয়েছে। সেটা হল গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ গঠন করা নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে, গণপরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা করে শপথবাক্য পাঠ করানো হবে কিনা। সে ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে আইনি জটিলতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অধ্যাপক আলী রিয়াজ আগেই জানিয়েছিলেন, নবনির্বাচিত সাংসদরা প্রথম ১৮০ দিন গণপরিষদের সদস্য হিসেবে জুলাই সনদে প্রস্তাবিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করবেন। কিন্তু তাঁদের কে শপথবাক্য পাঠ করাবেন? বাংলাদেশের আইনি কাঠামোয় এটা একটা গুরুতর সংকট নিয়ে আসতে পারে। ফলে তারেক রহমানের উপর এখন অনেক কিছুই নির্ভর করছে।












Discussion about this post