বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন থেকে সারা দেশজুড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির তরুণ নেতা সার্জিস আলম, আখতার হোসেন নেতারা নির্বাচন পরবর্তী ব্যাপক সংহিসতার অভিযোগ এনেছেন। দেশের বিভিন্নস্থানে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। শুক্রবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেন। হামলার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে জামায়াতে আমির শফিকুর রহমানও। আসিফ মাহমুদ তাঁর ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর ও পরিবার হুমকির সম্মুখীন। যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাঁরা আপনাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের শুরুটা যদি বিরোধী দল ও মতের মানুষদের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে হয় তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক হবে। শুক্রবার রাতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনা ও দলীয় অবস্থান নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। তাদের কাঁধে ভর দিয়ে তারেক রহমানের দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “ সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে জয়লাভ করেছে বিএনপি।”
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “ নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। ফল ঘোষণার পর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। দমন-পীড়ন চলতে থাকলে আমরা রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। ” তিনি বলেন, “বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কারণেও হামলা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। মনে হচ্ছে দেশে যুদ্ধাবস্থা চলছে। ”
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন। এনসিপি যে সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, সে সবের প্রায় সব জায়গায় দলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। অন্তত তিনটি আসনে ফল পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ঢাকা ৮, পঞ্চগড় ১, ও দিনাজপুর – ৫ আসনে আমাদের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ফল আটকে রাখা, একাধিকবার গণনা ও কাটাকাটির মাধ্যমে অল্প ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়েছে। ”
সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদা হাসান বলেন, “ আমরা চেয়েছিলাম মানুষের রায়কে বিএনপি সম্মান দেখাবে। কিন্তু নির্বাচনে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তারা পরিপূর্ণ অসম্মান ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে। ” বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ তুলে জাহিদ জানান, “বিএনপি কোথায় কোথায় সহিংসতা করেছে, তার ডকুমেনটেশন ছাত্রশক্তি করেছে। ছাত্রশক্তি দেশের প্রতিটি মোড়ে ডকুমেন্টেশন করা বিএনপির সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের চিত্র প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করবে। ” তিনি অভিযোগ করেন বিএনপি নিজেরা মারামারি করে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি যে প্রথম খুন করেছে, এমন নয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি নিজেদের অন্তঃকোন্দলে আডা়ইশো নেতাকর্মী খুন হয়েছে। নির্বাচনের পর থেকে আবার তা শুরু করেছে।
জাহিদ বলেন, “ আমরা দায় ও দরদের রাজনীতি করছি। সুতরাং, সবার প্রতি আমার দরদ রয়েছে। তাই বিএনপির যে নেতাকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, বিএনপি যে আড়াইশো জনকে গত দেড় বছরে খুন করেছে, তার প্রতিটি খুনের নিন্দা ও বিচার কামনা করছি। ” ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তাহমিদ আল মুদাসির বলেন, নির্বাচনের পর তারেক ঘোষণা করলেন যে বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মাহফিল হবে। তারা ঢাকায় দোয়া মাহফিল করে আর রংপুর-পঞ্চগড়ে তৃণমূলের ঘরবাড়িতে হামলা হয়েছে।
একই অভিযোগ তুলেছে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। ১৪ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সম্মলনে তিনি বলেন, “ আজকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনী পক্ষের কর্মী, সমর্থক, এজেন্ট ভোটার – বিভিন্ন জায়গায় বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে। ব্যক্তির ওপর হামলা হচ্ছে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়িতে। নির্বাচন মানে হার-জিতের ব্যাপার থাকবে স্বাভাবিক। সেই হার-জিতটা যদি স্বাভাবিকভাবে হয়, তাহলে কারও সেখানে বড়ো কোনো আপত্তি থাকে না। সবাই সাধারণত মেনে নেয়। কিন্তু যদি সেখানে বড়ো ধরনের কোনও বৈষম্য অথবা irregularities বা অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এটা প্রশ্ন তৈরি করে। ”












Discussion about this post