মুহাম্মদ ইউনূস কি বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় কি ঠাঁই পাচ্ছেন আসিফ নজরুল,খলিলুর রহমানরা? এমনই অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অলিন্দে। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপির ভূমিধস জয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর আসনে যে তারেক রহমান বসছেন, সেটা নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর মন্ত্রিসভা কেমন হবে, কারা কারা ঠাঁই পাচ্ছেন, উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কি মন্ত্রিসভায় থাকছেন কিনা, সেটা নিয়েই কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতির ইনসাইড স্টোরি ও মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এখন জোরদার চর্চা চলছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদেরও প্রাধান্য দেওয়া হবে। এই মন্ত্রিসভা হবে গতিশীল ও আধুনিক। তারেক রহমান ভোট প্রচার এবং ভোট পরবর্তী ফলাফলের পরও একাধিকবার দাবি করেছেন তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে “সবার আগে বাংলাদেশ”। এই আবহেই সোমবার অথবা মঙ্গলবার গঠন হতে পারে নতুন সরকার। কিন্তু বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে? কে কে ঠাঁই পেতে পারেন সেখানে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাঁরা হলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা তাঁর পাকা। আবার মির্জা ফকরুলের নাম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবেও বিবেচনা করছে বিএনপি। ফলে বর্ষীয়ান এই নেতাকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হলেও কেউ অবাক হবেন না। অন্যদিকে অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিতে অভিজ্ঞ এই নেতাদের মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদের নাম মন্ত্রিসভায় শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিএনপি নেতাদের মধ্যে আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া কার্যত পাকা। অন্যদিকে মিত্র দলগুলির মধ্যে আন্দালিভ রহমান পার্থ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়, তাঁর মন্ত্রিসভায় আসা কার্যত পাকা। এমনই গমসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকিরও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপি সূত্রে খবর, নারী, সংখ্যালঘু, পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞ মহল থেকেও কেউ কেউ তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন। যেমন, চিকিৎসক নেতা ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল মিন্টুর মতো ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে থাকতে পারেন বলেই খবর।
এ পর্যন্ত সব ঠিকই আছে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙ্গিনায় যে আলোচনা চলছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হল, ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাকেও মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বলেই রটনা। আবার মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি করার তোড়জোরও শুরু হয়েছে নানা মহল থেকে। যদিও আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জুলকারনাইন সায়ের লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুজন উপদেষ্টা ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশত্যাগ করতে পারেন বলে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহল বরাতে জানা গিয়েছে। তাদের একজন আজ দুপুর ১২.৫০-এর চায়না ইস্টার্নের ফ্লাইটে এবং আরেকজনের সন্ধ্যা ৬.৪৫-এর এমিরেইটস ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, যথাযথ অডিট ক্লিয়ারেন্স এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র ব্যতিত এই ব্যক্তিদের দেশ ত্যাগ করতে দেওয়া উচিত হবেনা। আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির উপর নিয়মিত নজর রাখছেন। তাঁর করা ভবিষ্যতবাণী এর আগেও বহুবার অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছে। তাই কোন দুজন উপদেষ্টা সেফ এক্সিট নিতে চলেছেন তা নিয়ে চলছে জল্পনা। অন্যদিকে এটাও জানা যাচ্ছে, আসিফ নজরুল, মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী ও খলিলুর রহমানের মতো কয়েকজনকেও তারেক রহমান মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিতে পারেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ কথা ভাবা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যান এবং রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য। মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখে দিয়ে, এবং আসিফ নজরুল, খলিলুরের মতো উপদেষ্টাদের মন্ত্রিসভায় রেখে দিয়ে তারেক দেশের আভ্যন্তরীণ এবং বৈদশিক স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে পারেন। এখন দেখার, কতটা সাহসী বা কতটা সাবধানী মন্ত্রিসভা গঠন করেন খালেদাপুত্র তারেক রহমান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post