বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে বিএনপি। এবার তাঁরা সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী যে তারেক রহমানই হতে চলেছেন তা একপ্রকার নিশ্চিত। এই আহবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্ন নিয়েই সবচেয়ে বেশি কাটাছেঁড়া চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। যদিও শনিবার তাঁর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদিক বৈঠকে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সাংবাদিক তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাদের জন্য কী ধরণের ব্যবহার অপেক্ষা করছে? তারেকের ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব ছিল, “সবার আগে আমার কাজ দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করা”। অর্থাৎ, কেউ দোষ করলে আইন মেনে তার শাস্তি নিশ্চিত করাই হবে তারেক সরকারের প্রথম লক্ষ্য। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ-সহ সব রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন। সবমিলিয়ে আশা-আশঙ্কার দোলাচলে রয়েছেন বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের কোটি কোটি সমর্থক।
ঘটনা হল, এবারের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাঁদের সমর্থকরা কার্যত বিএনপির বাক্সে তাঁদের ভোট উপুর করে দিয়েছেন। সেই কারণেই গোটা বাংলাদেশে বিএনপির জয়জয়কার। ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জিতেছে ২০৯টি আসন। যে দুই আসনে ভোটের ফলাফল স্থগিত রয়েছে, সেখানেও নাকি এগিয়ে বিএনপি প্রার্খীরা। আবার যে সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবার জয়লাভ করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই বিএনপির বিদ্রোহী নেতা। ভোটে জেতার পর তাঁরা প্রত্যেকেই বিএনপিতে প্রত্যাবর্তন করতে চান। সবমিলিয়ে বিএনপি একাই এক তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করেছে। যা সর্বকালের রেকর্ড বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এই ফলাফলের নেপথ্যে যে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট রয়েছে, তা কেউ অস্বীকার করছেন না। ফলে আওয়ামী লীগের উপর থাকা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা যদি তারেক রহমান তুলে নেন, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে বিএনপি একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। যদিও তারেক নিজে বলেছেন, ভোটের ময়দান হোক বা রাজনৈতিক ময়দান, রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। তবে তা যাতে প্রতিহিংসার রূপ না নেয় সে ব্যাপারে আমি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিজের দলের কর্মী-সমর্থক ও নেতাদের যেমন বিশেষ বার্তা দিয়েছেন, তেমনই অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিতেও বিশেষ আর্জি জানিয়েছেন। তারেকের এই সুক্ষ্ণ বার্তার মধ্যেই রয়েছে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে ফেরার বার্তা। এমনটাই মনে করছেন সে দেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু তারেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলি থেকে আওয়ামী লীগ নিয়ে আর্জি আসা শুরু হয়ে গেল। এর আগেও মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের কাছে এই ধরণের আর্জি ও অনুরোধ এসেছিল। কিন্তু যে হেতু ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত নয়, তাই তাঁদের দায়বদ্ধতাও ছিল না। এ ক্ষেত্রে বিএনপি সরকার গড়লে আন্তর্জাতিক মহলে তাঁদের দায়বদ্ধতা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন বিদেশী রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির আর্জিতে কর্ণপাত করার। যেমন, ইতিমধ্যেই কমনওয়েলথ দেশগুলির নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন জানিয়েছে, নতুন সরকারের প্রতি আমাদের সুপারিশ থাকবে—ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ-সহ সব রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যা ইউনূস সরকারের পক্ষে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল, তা তারেকের পক্ষে এড়ানো সম্ভব নয়।












Discussion about this post