প্রবাদেই আছে যঃ পলায়তি সঃ জীবতি।
যে পালিয়েছে সে বেঁচে গিয়েছে। বাংলাদেশের বিদায়ী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর নবরত্ন সভার সদস্যদের কাছে এখন এটা নিছক প্রবাদ নয়, এটা তাদের আপ্তবাক্য হয়ে গিয়েছে। সোমবার ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণে তিনি বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন। বিষয়গুলির মধ্যে প্রাধান্য দিয়েছে বাংলাদেশের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনকে। তাঁর দাবি, বহু বছর পরে বাংলাদেশে ‘আদর্শ’ নির্বাচন হয়েছে, যা ‘দৃষ্টান্ত’ হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনার সরকারকে ‘দৈত্যের গ্রাস’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, ছাত্র-ছাত্রীরা দেশকে মুক্ত করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশ সচল হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, “ যার দেশকে লুটেপুটে খেতেন তাদের অনুগতরা অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে পালিয়েছেন।” প্রশ্ন অন্যত্র। ইউনূসের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে চলেছে? কারণ, তিনি তো ক্ষমতালোভী। তদারকি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ক্ষমতা ভোগ করার জন্য। সুতরাং, সরকার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর লোভের ইতি ঘটবেন, এমনটা ভেবে নেওয়াটা সঙ্গত হবে না। কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, ইউনূসের লক্ষ্য এখন রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিদায়ী ভাষণেও মুহাম্মদ ইউনূসের মুখে শোনা গেল সেভেন সিস্টার্স প্রসঙ্গ। নেপাল ও ভুটানের মতো স্বাধীন দেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিকে এক সারিতে বসিয়ে ইউনুস যে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্বপ্নের কথা বললেন, সেটা কূটনৈতিকভাষায় সরাসরি ভারতের অখণ্ডতাকে প্রশ্ন করার শামিল। ভারতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলকে আলাদা আঞ্চলিক ভূখণ্ড হিসেবে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা নিছক অর্থনীতির কথা নয়। এটি পরিকল্পিত একটা বার্তা।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, লন্ডনে তারেকর সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিল ইউনূসের। সেই বৈঠকেই এই নিয়ে দুইয়ের মধ্যে একটা আপোসরফা হয়ে গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে জোর গুঞ্জন, তিনি হয়তো সাংবিধানিক কোনও পদে থেকে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন। মঙ্গলবার দেশের দায়িত্ব নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারের সমর্থনে রাজনৈতিক পদেই থেকে যেতে পারেন তিনি।সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে খবর, ইউনূস সহ কারওর জন্যই নির্দিষ্ট কোনও পদ এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ গঠনে যোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে আগ্রহী তারেক রহমান। ইউনূসের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট পদ নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হয়েছে তারেক রহমান সাহেবের অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ার আগ্রহকে ঘিরে। তিনি নির্বাচিত হলে দেশের সব প্রতিভাকে কাজে লাগাতে চান।’
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইউনূসের অভিজ্ঞতা দেশের স্বার্থে বিভিন্নভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে নির্বাচনের পর সুবিধাজনক সময়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা থাকলেও ইউনূসের জন্য কোনও নির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়নি। কবির বলেন, ‘রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে যেটা ভাল হবে, তারেক রহমান সেটাই করবেন। প্রয়োজনে যোগ্য ব্যক্তিদের তিনি দলে নেবেন।তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কারওর জন্যই কোনও নির্দিষ্ট পদ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে। তাঁর আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তারেক রহমান ও ইউনূসের আলোচনায় রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তারেক রহমানের দল এবং ইউনূসের দপ্তর, উভয়ই এই দাবি অস্বীকার করেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশ পরিচালনা করে আসছেন ইউনূস। ফলে তাঁকে নতুন সরকারে উপযুক্ত সাংবিধানিক বা সরকারি ভূমিকায় রাখা সহজ হবে না বলে মনে করছেন অনেকে। তবে কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ক্ষেত্রে তিনি তারেক রহমানের জন্য বড় সম্পদ হতে পারেন বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব জল্পনা পুরোপুরি নাকচ করেছেন।
তিনি বলেন, ইউনূস রাজনীতিতে থাকার ক্ষেত্রে কোনও আগ্রহ দেখাননি। তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে তাঁর আগ্রহ শূন্য। কোনো সাংবিধানিক পদেও নয়। দেশের সংকটকালে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি দেশকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে গেছেন। এখন ক্ষমতা নতুন সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’ তবে ইউনূস নিজে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলেননি। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি নিজের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।












Discussion about this post