রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তারেকের তেমন নেই। তবে রক্তে মিশে রয়েছে রাজনীতি। বাবা-মা দুইজনেই রাজনীতি করতেন। সেই সূত্রে দম্পতির পুত্রের রক্তের মধ্যে মিশে রয়েছে রাজনীতি। তাই, সামান্য হলেও তারেক জিয়া বুঝতে পেরেছেন যে ২৪-য়ের জুলাইয়ের আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংগঠিত হয়নি। জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আদর্শগত একটি পরিবর্তন আনা। তারেক রহমান বুঝতে পারছেন যে হাওয়া ঘুরতে শুরু করেছে। নির্বাচনের দিন থেকেই বিভিন্ন জেলা শহরে আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খোলা শুরু হয়েছে। ইউনূস সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর জারি করে নিষেধাজ্ঞা। প্রায় দেড় বছর বাদে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্ধ থাকা তাদের দলীয় কার্যলয় তালা খুলতে শুরু করেছেন। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, বিএনপির তরফে কিন্তু তাদের কোনওরকম বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নিউজ বর্তমান সে ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। আওয়ামী লীগের দফতরের তালা খোলা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে গিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু দাউদ। তিনি তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে আবু দাউদ বলেন, যে ঘরটিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় বলে দাবি করা হচ্ছে, তিনি সেটি গুদামঘর হিসেবেই জানতেন। ১৩ তারিখ সকালে গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে আসার সময় চাকলাহাট বাজারে ওই ঘরের সামনে লোকজনের জটলা দেখে সেখানে তিনি যান। স্থানীয়দের কাছে তিনি শোনেন জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী ওই গুদামঘর খুলতে দিচ্ছে না। পরে তিনি ওই কর্মীর থেকে চাবি নিয়ে গুদামঘরটি খোলার ব্যবস্থা করেন। পরে চাবি বাজার বণিক সমিতির কাছে জমা রাখা হয়।
স্থানীয় ওই বিএনপি নেতার কথা অনুযায়ী, “এ সময় আমি ঘরটি গুদামঘর বলেই জানতাম। সেখানে কোনো চেয়ার, টেবিল বা কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ছিল না। ঘটনার সময় আমি লোকজনকে সামলাতে গিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বক্তব্য দিয়েছেন—তা আমি বুঝে উঠতে পারিনি। পরে শুনেছি সেখানকার ভিডিও আওয়ামী লীগ অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
খুলনাতেও আওয়ামী লীগের কার্যলয় খুলে গিয়েছে। গণ আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। রবিবার সেখানে যান আওয়ামী লীগের একদল নেতা। তাঁরা সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে মুজিবুর ও হাসিনার ছবিতে মালা দেন। দেওয়া হয় জয় বাংলা স্লোগান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের এক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, এই কর্মসূচির জন্য আলাদা কোনও আয়োজন করা হয়নি। দলীয় দফতরটি দীর্ঘদিনধরে তালা বন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। তারা বিকেলে সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। এর জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও নির্দেশ ছিল না। নিচু তলার কর্মীরাই উদ্যোগ নিয়ে এই পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। যে কোনও কর্মসূচির জন্য আমরা তৈরি। শুধু ডাক বা নেতৃত্বের অপেক্ষা।”
বহু জায়গায় বিএনপি নেতা কর্মীাদের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খোলা হয়েছে। ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর খোলা হল পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১২ জন নেতা-কর্মী উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। খুলনা, দিনাজপুরের আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা বহু কার্যালয় খোলা হয়েছে। কোনও কোনও জায়গা থেকে আবার তালা খোলার পর আবারও তালা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও এসেছে। তবে সেটা সংখ্যায় খুব কম। মোটের ওপর একটা বিষয় পরিষ্কার যে বিদায়ী সরকার যে পথে হেঁটেছিল, তারেকের বিএনপি সরকার সেই পথে হাঁটবে না।












Discussion about this post