একটি শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। স্বাভাবিকভাবেই এই চিঠি বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। এই চিঠিতে বহু বিষয় নিয়ে ট্রাম্প তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। চিঠির গুরুত্ব দুই ভাবে বিচার করা যেতে পারে। এটি যেমন একদিকে ঢাকা-ওয়াশিংটনের আগামী দিনের সম্পর্কের অভিমুখ নির্দেশ করছে, অপরদিকে এই চিঠি আসলে ইউনূস সরকারের গত ১৮ মাসের ক্ষতির খতিয়ান। এটা নিছক চিঠি নয়, এটা তারেক রহমান সরকারের জন্য একটা বার্তা।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ১৩ মাসে সে দেশের রাজনৈতিক হিংসায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৮০০০-এরও বেশি মানুষ। সে দেশের মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’ (এইচআরএসএস)-র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। হত ১৬০জনের মধ্যে ৮৫ জন জিয়ার দল বিএনপির। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪-য়ের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫-য়ের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ১০৪৭টি রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে ১০৪৭টি।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মব সন্ত্রাস, যাদের হামলায় গত দেড় বছরে আক্রান্ত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদপত্র প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন থেকে শুরু করে বহু মাজার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারক।মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর – অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১৪ মাসে দেশে অন্তত ৪০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এসেছে। তদারকি সরকারের দাবি, তাদের আমলে বাংলাদেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। এই দাবি কি যুক্তিসংগত? গত ১৮ মাসের ইউনূসের শাসনামলে সংখ্যালঘু নিধনের ঘটনা কম হয়েছে? গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত হল তো বাক স্বাধীনতার অধিকার। তদারকি সরকারের আমলে সত্যিই কি বাক স্বাধীনতার অধিকার ছিল? কী কারণে ডেইলি স্টার বা প্রথম আলোর দফতরে ভাঙচুর চালানো হল। আগুন দেওয়া হল? হাসিনার বিদায়ের পর থেকে ঢাকায় ক্ষোভের আগুন ধিক ধিক করে জ্বলছিল। আর হাদির হত্যা সেই আগুনকে দাবানলে পরিণত করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সুপরিকল্পিতভাবে ভারতকে জড়িয়ে দেওয়া হয়। দাবি করা হয়, ভারত-বিদ্বেষী নেতাকে হত্যা করতে দিল্লি থেকে লোক পাঠানো হয়েছিল। মন্দিরে ভাঙচুর হয়েছে। দুর্গাপুজোয় অসুরের মুখ বিকৃত করা হয়েছে। বেছে বেছে হিন্দু এলাকায় হয়েছে বর্বরোচিত হামলা।
আর্থিক দিক থেকেও বাংলাদেশকে কয়েক যুগ পিছিয়ে দিয়েছেন আগের সরকার প্রধান। সে দেশের অর্থমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৫য়ের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে দেশি এবং বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৯ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। এই দেড় বছরে দারিদ্র্যের জাদুকরের প্রতিশ্রুতি ছিল তিনি দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠাবেন। পরিবর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছেন। তারেক সরকারের ওপর চাপিয়ে গেলে ঋণের বোঝা। ঋণের পরিমাণ ২৩ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মেয়াদে ব্যাংকিং উৎস থেকে ৬১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে আগের সরকার।
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হয়েছে নির্বিবাদে হামলা। বঙ্গবন্ধুর বাসভবন, জাদুঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৫ অগাস্টের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে ফ্যাসিস্টের রোলমডেল হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে।












Discussion about this post