সময়টা গত ডিসেম্বর। তারিখ ২৫। দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। দেশে প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার পথে ‘ঐক্যবদ্ধভাবে’ কাজ করে যাওয়ার প্রত্যাশা তুলে ধরেন। সারজিস বলেন, “ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাববিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রায় দেড় যুগ পর বাংলাদেশে ফিরছেন। স্বৈরাচারের পতন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি, নানা উত্থান-পতন, রাজনৈতিক ক্রমধারার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি আজ বাংলাদেশে আসছেন। আমরা ২৪ এর অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে তাকে স্বাগত জানাই। “পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই, আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই থেকে শুরু করে আগামীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার পথে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা কাজ করে যাব, এটাই প্রত্যাশা। স্বাগতম।”
তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুরনো প্রতিহিংসার রাজনৈতিক কালচার বাদ দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির নতুন ধারা। তারেক রহমান সেই উদ্যোগ গ্রহণ করায় আন্তরিক ধন্যবাদ।”
নির্বাচন শেষ। সরকার গঠন করেছে বিএনপি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জামায়াত প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির দৃশ্যপট বদলে গিয়েছে। তারেকের দেশে ফেরায় যে সারজিস খুশি হয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, এখন সেই সারজিসের গলায় হুমকি সুর। আর কাকে হুমকি দিয়েছেন, সেটা শুনলে আরও অবাক হতে হবে। সারজিস আলম হুমকি দিয়েছেন দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বিষয়টিক অন্যভাবে দেখছেন। তাদের মতে, সারজিসদের আশা ছিল, তারা ক্ষমতা যাবে। সেই আশা পূরণ না হওয়ায় এখন তাঁদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। তাই, কাণ্ডজ্ঞানহীন শূন্য হয়ে সারজিস আলম তারেককে হুমকি দিয়েছেন। তিনি ভুলে গিয়েছেন, যে তারেক শুধু মাত্র একটি দলের শীর্ষকর্তাই শুধু নন। তিনি একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এও বলছেন, সারজিস আলমরা একটি নির্বাচিত সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
কী বলেছেন সারজিস আলম?
“আপনাদের যে অ্যাকশন, সেই অ্যাকশনগুলো নিন। এবং তারেক রহমানকে আমার জায়গা থেকে আমি স্পষ্ট করে একটা কথা বলতে চাই – আপনি দেশে এসেছেন। আপনি আপনার জায়গা থেকে এই নেতাকর্মীদেরকে, যারা আজকে থেকে দেড় বছর আগে জুলুমের শিকার ছিল, যারা নির্যাতিত ছিল, অনেকে নিপীড়িত ছিল। তারা যে আজকে নতুন করে জালেম হয়ে উঠছে। তাদেরকে যদি আপনি আটকাইতে না পারেন, নিয়ন্ত্রণ না করতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি হবে আপনাদের। ”
এখানেই শেষ নয়। তারেকের উদ্দেশ্যে সারজিস আরও বলেন, “এই জন্য আহ্বান করব, যে কঠোর নির্দেশনা দেন। পুরা, স্থানীয় পর্যায়ে আপনাদের নেতারা যে ভয়ের রাজ্য কায়েম করছে, আপনাদের নেতা-কর্মীরা যে একটা বুনো উল্লাস করছে…. মানুষের বাড়িতে হামলা করে, মানুষের ওপরে হামলা করে, রক্ত ঝড়িয়ে… এই বুনো উল্লাস আপনার থামাইতে হবে। আজকে আমার যুবশক্তির একজন কমিটির সদস্যকে তারা ২০.. ১৫-২০ জন মিলে পিটিয়ে মেরেছে। মারার পরে তাকে আবার পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। আবার মিথ্যা মামলার নাটক সাজাচ্ছে… যে মাদকের মামলা দিবে… আক্রমণের মামলা দিবে। আবার নাটক করে একজন আবার হাসাপাতালে ভর্তি হয়ে থাকে। এই ধরনের নাটক করে যদি আপনারা মনে করেন বাংলাদেশে একটা ভয়ের রাজত্ব কায়েম করবেন আমি শুধু আপনাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি – এখানে অভ্যুত্থানের প্রজন্ম, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া – সবাই এখনও বেঁচে আছে। ”
তারেককে কার্যত হুমকির সুরে বলেন, “এই মানুষগুলো ১৬ বছর এর আগে সহ্য করেছিল। এবার কিন্তু ছয় মাসও সহ্য করবে না। আমি আপনাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি… এর আগে শেষ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। এমন অনেকে আছে যারা অপরাধ করেও পার পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের ওই অভিজ্ঞতাগুলো আগে ছিল না বলে এটা হয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতা আছে। কেউ পার পাবে না। কেউ পালানোর সুযোগ পাবে না। একদম স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি। আপনারা সবাইকে সতর্ক করে দেন। আমারা জান থাকতে, জীবন থাকতে… আমাদের একজন নিরাপরাধ নেতাকর্মীকে শুধু দল করার অপরাধে… শুধু একটা মার্কায় ভোট দেওয়ার অপরাধে আমরা হয়রানির শিকার হইতে দিব না। আমরা জুলুমের শিকার হইতে দিব না। আমরা রক্ত ঝড়তে দিব না। এটা আমাদের ওয়াদা। এটা আমাদের কমিটমেন্ট।”












Discussion about this post