দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অপরদিকে জামায়াত জয়ী হয়েছে ৬৮টি আসনে। কিন্তু রাজনৈতিক চালে পদ পদে বিএনপিকে তারা টেক্কা দিচ্ছে। ৭৪ বছর পরে শহিদ মিনারে গিয়েছে জামায়াত। সেখানে গিয়ে তারা জনরোষের মুখে পড়ে। ছাত্রজনতার ক্ষোভ আর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নবাণে জর্জরিত তারা। সারাজীবন শহিদ মিনারে ফুল দেওয়াকে তারা বিদআত বলে এসেছে। বিদআত অর্থ প্রথা বহির্ভূত কোনও কাজ। জামাত কেন শহিদ মিনারে গিয়ে ফুল দিতে গেল? এখানেই শেষ নয়। শহিদ মিনারে গিয়ে মোনাজাত ধরেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে অনুসরণ করে শহিদ মিনারে মুনাজাত করে জামায়াত, এনসিপি সহ বিভিন্ন দলের নেতারা। সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে, জামায়াত কি এনসিপিকে অনুসরণ করল ? না কি এনসিপি জামায়াতকে?
আলোচনার শুরুটা নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই। শপথের আগেই বিএনপি জানায়, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে না। তাদের এই বক্তব্যে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় জুলাই সনদ। গত দেড় বছর ধরে সুশীল সমাজ ও ছোটো এবং মাঝারি মানের রাজনৈতিকদলগুলো এই সনদ তৈরি করেছে। বিএনপি সনদ প্রণয়নে থাকলেও পদে পদে তারা তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দেয়। অভিযোগ, বিএনপি নির্বাচনেয় জয়ী হয়ে শুধু তাদের পছন্দের সংস্কাগুলো বাস্তবায়ন করতে চাইছে। ফলে সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা বিরোধের মুখে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান বলছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকার করেছে। ফলে, সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে একটা সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। গণভোটের রায় অস্বীকার করা, সংস্কার পরিষদে যোগ না দেওয়া, জুলাই সনদ নিজেদের পছন্দ মতো বাস্তবায়নের কথা বলে বিএনপিকে গণবিরোধী হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা করবে জামায়াত। সেই চেষ্টায় কিছুটা তারা সফল হয়েছে। এখনই মানুষ বিএনপিকে সংস্কার বিরোধী হিসেবে জামায়াতের ন্যারেটিভ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। এর ফলে ২৪-য়ের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিএনপির অবস্থা অনেকটাই প্রথম রাতে নিহত বেডা়লের মতো। আর জামায়াত তাদের যে পথ দেখায় তাদের সেই পথেই চলতে হয়।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলছেন, তাঁর দলের এমপিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করবেন না। সরকারি প্লট বা ফ্ল্যাট তারা নেবেন না। তিনি বলেন, জামায়াত রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নেয়নি। নিয়েছে কর্তব্য হিসেবে। তাঁর এই ঘোষনার পর বিএনপিকেও বাধ্য হয়ে শুল্কুমক্ত গাড়ি ব্যবহার না করা এবং সরকারি প্লট বা ফ্ল্যাট না নেওয়ার কথা বলতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে প্রথম সংসদীয় বৈঠকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে কোনও মন্ত্রী শুল্কমুক্ত গাড়ি, সরকারি বরাদ্দ কোনও প্লটও নেবেন না। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বিএনপির এমপিরা কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ব্যয় সংকোচের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মন্ত্রীদের অহেতুক অর্থ খরচ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে সচিবালয়ে। তবে এখন টক অব দ্য টাউন হলে শহিদ মিনারে মুনাজাত করা। জামায়াত এনসিপি সহ ১১ দলের নেতারা সিদ্ধান্ত নেন, তারা পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মুনাজাত ধরবেন। দেখাদেখি তারেক রহমানও শহিদ মিনারে মুনাজাত করেন। প্রশ্ন উঠছে, হচ্ছেটা কি? তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন কিছুদিন আগে। এরই মধ্যে জামায়াতকে অনুসরণ করা হলে ভবিষ্যতে কী হবে? আমরা জানি আওয়ামী লীগের শাসনামলে তারা ওই দলের ভিতরে ঢুকে দলটিকে শেষ করেছিল। এবার কি টার্গেট বিএনপি? আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপিতে জামায়াতের ঢুকে পড়া আরও বেশি সহজ।
শহিদ মিনারে জামায়াতে আমিরকে সাংবিদাকেরা প্রশ্ন করেন, ৭৪ বছর পর তারা সেখানে এল কেন? এই বিগত বছরে তারা নানাভাবে ক্ষমতার আসেপাশে ছিল। তখন তাদের দেখা যায়নি। আজ হঠাৎ কী হল? আসলে নির্বাচনের আগে থেকেই দলটি তাদের অতীত ভাবমূর্তি মুছে ফেলতে তৎপর হয়। অমুসলিমকে প্রার্থী করে। আর শহিদ মিনারে আসা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলনেত হিসেবে এটা তাঁর কর্তব্য।












Discussion about this post