বাংলাদেশে সেই সময় ক্ষমতায় তদারকি সরকার প্রধান। তাঁর আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদস্থকর্তা জেনারেল কামরুল হাসান গিয়েছিলেন পাকিস্তান সফরে। তিনি শীর্ষ জেনারেলদের মধ্যে প্রথম ব্যক্ত হিসেবে পাকিস্তান সফরে যান ২০২৫-য়ের জানুয়ারিতে। পাকিস্তান সফরকালে তিনি সে দেশ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিও দিয়ে এসেছিলেন। সফরকালে তিনি পাকসেনার ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। পাকিস্তান সেনার সঙ্গে এত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক যার, সেই কামরুল হাসানকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে যে বার্তা দেওয়া হল, সেটা যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী।
প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমান আসীন হওয়ার পর প্রশাসনে বেশ কিছু রদবদল ঘটিয়েছেন। পুলিশেও হয়েছে রদবদল। এই রদবদলকে কোনওভাবেই রুটিন মাফিক প্রশাসনিক কাজ নয়। বরং এই ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার একটি কিউরেটিং প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাক্কা এসেছে পুলিশ প্রশাসনের ওপর। আইজিপি পদ থেকে বাহারুল আলমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের যারা জড়িত বলে অভিযুক্ত, তাদের একটি নামের তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে পুলিশের মহানির্দেশক বাহারুল আলমের। এই প্রসঙ্গে তদন্ত কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ. ল. ম. ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তে যে পাঁচ পুলিশকর্তার নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন বাহারুল আলম। ঘটনার সময় তিনি এসবির কর্মকর্তা ছিলেন। স্পর্শকাতর ওই প্রতিবেদনে আইজিপির নাম আসার পর থেকেই প্রশাসনের ভিতরে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকে বলছেন, তারেক রহমান আগে থেকেই বাহারুল আলমকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতেও বড়ো ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নেন তারেক রহমান। সেনাবাহিনীকে নতুন করে সাজিয়েছেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশের সেনা সদর জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান। গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও গোয়েন্দা পদে নতুন নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে ৫৫ তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কম্যান্ডিং হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ মইনুর রহমানকে চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই পদটি অপারেশন সংক্রান্ত প্রধান দায়িত্ব বহন করে। তিনি এর আগে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কম্যান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামিম অবসরকালীন ছুটিতে গিয়েছেন। তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হল লেফটেন্যান্ট জেনারেল রহমান।
আর্মড ফোর্সের ডিভিশন প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে কোনও দেশের রাষ্ট্রদূত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সেনার নতুন প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার করা হয়েছে মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে। তিনি পদাতিক বাহিনীর ২৪ তম ডিভিশনে ছিলেন। মেজর জেনারেল জেএম ইমদাদুল ইসলাম পদাতিক বাহিনীর ৫৫তম ডিভিশনে ছিলেন। তাঁকে পাঠানো হয়েছে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে। সেনার এই রদবদলে বাংলাদেশের কৌশলগত কম্যান্ড থেকে গোয়েন্দা সংস্থা-সবেতেই প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেজর জেনারেল মনোনীত কায়সার রশিদ চৌধুরী ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। বর্তমানে তিনি সেনা সদর দফতরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে কর্মরত। এছাড়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি এর আগে চট্টগ্রামে ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদায়ী পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসানকেও রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। ফিল্ড নেতৃত্বেও রদবদল হয়েছে। মেজর জেনারেল জেএম এমদাদুল ইসলাম পূর্ববঙ্গ রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট হয়েছেন। অন্যদিকে মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সালিমকে ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।












Discussion about this post