জাতীয় নির্বাচন শেষ। এবার সবার নজর স্থানীয় নির্বাচনের দিকে। বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামি এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে উপজেলার চেয়ারম্যান, পুরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য তারা প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ তারা দ্রুত শুরু করবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে জয়ী হওয়াই জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দল সংসদ নির্বাচনের সময় ঠিক করে ফেলে এই জোট তারা অটুট রাখার চেষ্টা করবে। স্থানীয় নির্বাচনেও তারা প্রার্থী দেবে আলোচনার ভিত্তিতে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন চেয়েছিল জামায়াত এবং এনসিপি । বিএনপির বিরোধিতায় সেই ভোট হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উনয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেছেন, দ্রুতই হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখন এটা অনেকটাই পরিষ্কার যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব দল প্রস্তুতি নেবে।
অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সংবিধানে বেশ কিছু সংশোধন করেছে। পরিবর্তন করা হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশও। এই সব অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের অনুমোদন পেলে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে হবে। আওয়ামী লীগ আমলে সিটি ও পুরসভার মেয়ার, উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। মনে করা হচ্ছে তারাও স্থানীয় নির্বাচনে নির্দলীয় পদ্ধতিতে ফিরে যাবে। ঐক্যমত্য কমিশনের সংলাপেও বিএনপির অবস্থান ছিল নির্দলীয় পদ্ধতিতে হতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। রমজানের পর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। সংসদে নির্বাচনে ভালো ফল করায় জামায়াত এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ঢাকায় দুই সিটির আওয়াতাধীন ১৫টি আসনে ৭টিতে জয়ী হয়েছে জামায়াত জোট। একটি আসন কম পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের চেয়ে ঢাকায় বেশি ভোট পেয়েছে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা।
স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সুযোগ থাকবে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোটে নামার। গত বছরের জানুয়ারি থেক পরের কয়েক মাসে ঢাকায় দুই সিটির ১২৯টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর বাছাই করেছে জামায়াত। এই নেতার তখন থেকেই ওয়ার্ড পর্যায়ে ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের সময়েও নিজেদের প্রচার চালান। যেমন ঢাকা উত্তরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থী জামায়াত নেতা আবদুস সাত্তার সুমন ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছেন। দক্ষিণের ২০, ২১ এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচার শুরু করেছেন।
জামায়াত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ছিলে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে স্থানীয় বা জাতীয় যে কোনও নির্বাচনের প্রস্তুতি জামায়াত সারাবছর ধরেই নেয়। সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হয় না। তবে এই বিষয়ে সব আলোচনা শুরু হয়েছে। মেয়র পদে কারা সমর্থন পাবেন, তা এখনও ঠিক হয়নি। এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়েছে সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে চারটি এনসিপিকে তারা ছেড়ে দেয়। একটি বাংলাদেশ খেলাফত কটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেয় জামায়াত। বাকি ১০টিতে লড়ে জামায়াত ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ এবং ঢাকা-১৬ আসনে জয় পেয়েছে। পাঁচ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে ঢাকা-৭ এবং ঢাকা-১০ আসনে পরাজিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থীরা। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি এবং ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত তিন থেকে ছয় হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছে।
জামায়াত জোটের শরিক এনসিপি ঢাকায় একটি মেয়র পদ চায়। দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ইতোমধ্যে নিজেকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।












Discussion about this post