বাংলাদেশ একটা অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই পরিস্থিতি তখনই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, যখন একটি নির্বাচন হয়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে। ঘটলও তাই। সরকারে এসেছে বিএনপি। তারেক রহমান দেশের ক্ষমতায় অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। তার সঙ্গে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আয়ত্তে আনারও প্রতিজ্ঞা করেছেন। সেসব তো চলছে। আর দেশ যখন ধীরে ধীরে বিএনপির হাত ধরে স্বাভাবিক জায়গায় যাচ্ছে, তখন একটা বিষয় উঠে আসছে প্রবলভাবে। সেটি হল শেখ হাসিনার ফেরার প্রসঙ্গ। আদৌ তিনি কি ফিরবেন? কারণ প্রায় ১৮ মাস তিনি দেশের বাইরে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। মৃত্যুদণ্ডের সাজা রয়েছে। যদিও যে আদালত এই সাজা দিয়েছে,তাদের এক্তিয়ার এবং সর্বোপরি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মোটের উপর একটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন, তিনি কি ফিরছেন? তারেক রহমানের হাত ধরে ফেরার কি কোনও পথ রয়েছে হাসিনার? কেউ কেউ বলছেন, খেলা তো শুরু করে দিয়েছে দিল্লি।
হাসিনার কথা বলতে গেলে অবশ্যম্ভী হিসাবে ভারতের প্রসঙ্গ চলে আসে। প্রথম দিকের বিষয়গুলির দিকে দেখলে বোঝা যায়, ভারতের একটি ভূমিকা রয়েছে। যখন খালেদা জিয়া অসুস্থ ছিলেন, তখন তারেক রহমান লন্ডনে। তিনি ফিরতে পারছিলেন না। কারণ তিনি যে সময় দেশ ছেড়েছিলেন, তখন সেনাবাহিনীর কাছে একটি মুচলেখা দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কখনোই দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতি করবেন না। ফলে আশঙ্কা ছিল, দেশে ফিরলেই তারেককে গ্রেফতার করতে পারে সেনাবাহিনী। তাও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তার কিছুদিনের মধ্যে অবশ্য ঘোষণা করেন, তাঁর ফেরাটা একক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে না। খানিকটা পিছিয়ে যান তিনি। এরপর কিছুদিনের মধ্যে ফেরার পাকাপাকি খবর সামনে আসে। শুধু তাই নয়, তিনি দেশে ফেরেন। এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। অনেকেই তখন বলেছিলেন, তারেকের দেশে ফেরার পিছনে ভারত রয়েছে। ফলে তারেক খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির ভার নিজের কাঁধে নিতেই, ভারতের কথা, ভূমিকা তাঁর যে মাথায় থাকবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ? আওয়ামী লীগকে তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। কারণ তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায়। তারেক রহমান জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। কারণ একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার অধিকার কারও নেই। মানুষ ঠিক করবে, তারা থাকবে নাকি থাকবে না।
অনেকে বলছেন, ভারত যে চাল দিয়েছে তাতে জামায়েত ও পাকিস্তান কুপোকাত। যেভাবে তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন, সেই ছকেই হাসিনা ফিরতে পারবে। আর সেখানে পুরোপুরি সাহায্য করবে তারেক রহমান।
এটা বলতে গেলে, আগে নজর দিতে হবে বাংলাদেশে কিছু পরির্বতন হয়েছে। কেমন পরিবর্তন? বাংলাদেশে সামরিক ক্ষেত্রে কিছু বদল এসেছে। যেটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এমনকি জুডিশিয়াল ক্ষেত্রও পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়াও যেটা অতি গুরুত্বপুর্ণ সেটা হল, মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যে আইনজীবী লড়াই করেছেন, তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনজীবী তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় আইনজীবী আমিনুল ইসলামকি আনা হয়েছে। যিনি বিএনপি বা ভারত পন্থী হিসাবে পরিচিত। তবে এখানেই থেমে নেই। আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে বদল লক্ষ্য করা গিয়েছে। যেমন নয়া দিল্লি – ঢাকার ভিসা জটিলতা, দুই দেশের বেশ চুক্তির জটিলতা..সবটাই কাটতে চলেছে। এমনকি যে ভারত বিরোধী জিগিরকে মুহাম্মদ ইউনূস উস্কে দিয়েছিলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, সেটা থিতিয়ে গিয়েছে। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসতেই পরিবর্তনের বাংলাদেশ দেখা যাচ্ছে। যত দিন গড়াবে, ততই এই বদল লক্ষ্য করা যাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়ায় তারেকের আমলে।












Discussion about this post