প্রশ্নটা আগেও ছিল। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রশ্নটা গতি পেয়েছে। প্রশ্ন হল আওয়ামী লীগকে কি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফেরাতে চায় বিএনপি? আলোচনা কিন্তু আজও অব্যাহত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আওয়ামী লীগের অফিস একটার পর একটা খুলতে শুরু করেছে। হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে সরব নানা মহল। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোনও খবর এখনও প্রকাশিত হয় ন। তবে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাসিনাকে নিয়ে একাধিক খবর প্রকাশিত হয়েছে। আগামীদিনেও যে হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে হাসিনার দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার নতুন একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হাসিনার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে সাক্ষাৎকারের শিরোনাম করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারের একটি অংশে হাসিনা জানিয়েছেন, “আমার সময়েও বাংলাদেশে ভোট সার্বিক হয়নি। ” সাক্ষাৎকারের শিরোনামে সেটাই রাখা হয়েছে। আর এখানেই জল্পনা আর প্রশ্নের জন্ম। তবে কি হাসিনার টার্গেট এখন আর ইউনূস নন , তারেক? কারণ, বাংলাদেশ ভোট নিয়ে হাসিনার বিবৃতি আমাদের সকলের স্মরণে রয়েছে। হাসিনা বলেছিলেন, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। খাতাকলমে ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি হলেও আগের রাত, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে শুরু হয় ছাপ্পা। বিএনপি যাতে ক্ষমতায় আসীন হতে পারে, সে কারণেই তদারকি সরকার আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে রাজি হয়নি। আর এর পিছনে তারেক রহমানের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল।
সম্প্রতি বিএনপির একটি জনসভায় তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণ ভাইরাল হয়েছে। নিউজ বর্তমান সেই ভিডিরও সত্যতা যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তারেককে বলতে শোনা যায়, “ আজ শেখ হাসিনা যে কথা বলেছে, শেখ হাসিনার এই জবাব আমি দেব। হাসিনার এই কথার জবাব বাংলাদেশের মানুষ তাকে দেবে। ”
মনে করা হচ্ছে তারেক রহমানের এই ভিডিও বার্তা কানে গিয়েছে হাসিনার। তাই, এখন তাঁর নিশানায় ইউনূস নন, তারেক রহমান। হাসিনা প্রতিনিয়ত বলে চলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিয়েছে। সরকারে পরিবর্তন হয়েছে। কিন্ত দেশজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ আর হত্যালীলা বন্ধ হয়নি। বন্ধ হয়নি আওয়ামী লীগের ওপর অত্যাচার। তাদের ওপর লাগাতার আক্রমণ, সন্ত্রাস চলছে। আমরা প্রতিটি ঘটনার বিচার করব। কেউ রেহাই পাবে না। এমনকী তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়েও মুখ খুলেছেন হাসিনা। বলেছেন, “আমি সব জানি। ” একই সঙ্গে সারা দেশে মামলা করারও নির্দেশ দিয়েছেন হাসিনা। বলেছেন, দলের যে সব নেতা কর্মী হামলার শিকার, তারা আদালতে ইউনূসকে জড়িয়ে মামলা দায়ের করুক। আগামীদিনে এই সব নথি কাজে আসবে। এছাড়াও যে বিষয়টি সকলের নজর কেড়েছে তা হল চলতি মাসের তিনটি দিন ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চ কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন হাসিনা। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এই তিনটি দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
প্রথমে আসা যাক ৭ মার্চের কথায়। ১৯৭১-য়ের এই দিনে ঢাকার রমনায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে এক জনসভায় ভাষণ দেন মুজিবুর রহমান। ওই ভাষণ মঞ্চ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান। সেই ভাষণে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন – “ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুরের জন্মশতবার্ষিকী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়মী লীগ তাদের প্রাতঃস্মরণীয় নেতাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ পায়নি। ঢাকায় ধানমণ্ডি ৩২ এ মুজিবুর রহমানের বাড়ি যেটা জাতীয় সংগ্রহশালা ছিল, সেটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই বাড়িতে কাউকে শ্রদ্ধা জানাতে দেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে যাওয়া কয়জন নারী ও পুরুষ হেনস্থার শিকার হন। ফুল নিয়ে একজন রিকশচালক চালক শ্রদ্ধা জানাতে গেলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। আর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস তথা স্বাধীনতা দিবস। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লিগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং অন্যত্র দিনটি উদযাপনের সুযোগ পায়নি। স্মৃতিসৌধে এবং অন্যত্র স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন আওয়ামী লিগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, চিন্তাভাবনা করেই ওই তিনটি দিন নির্বাচন করেছেন হাসিনা। ওই তিনটি দিনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।












Discussion about this post