বাংলাদেশে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। তদারকি সরকার বিদায় নিয়েছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেয়েছে বিএনপি। তারা সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন তারেক রহমান। বাংলাদেশে পালাবদল ঘটেছে। এই অবস্থায় হাসিনার ফেরা নিয়ে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে। তদারকি সরকারের সময় বিষয়টা ছিল প্রত্যর্পণ। আর বিএনপি সরকারের আমলে সেটা বদলে হয়েছে প্রত্যাবর্তন। নতুন করে হাসিনাকে নিয়ে আলোচনার কারণ, দিল্লির একটি বার্তা এবং বাংলাদেশের একটি বার্তা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিনার একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। নিউজ বর্তমান সেই ভিডিওর সতত্য যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে হাসিনাকে বলতে শোনা গিয়েছে, তিনি দেশে ফিরছেন। বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসিনাকে নিয়ে তারা কীভাবছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। হাসিনা দেশে ফিরবেন কি জাতীয় রাজনীতিতে যোগদানের জন্য? না কি কারাগারে যাওয়ার জন্য? এই দুটি প্রশ্ন ঘুরে-ফিরে আসছে।
তদারকি সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। আদালত ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যদণ্ড দিয়েছে। তদারকি সরকার সেই দণ্ডাদেশ কার্যকর করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ছিল। সে কারণে পূর্বতন সরকারের তরফে দিল্লির কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি পেশ করা হয়। একবার নয়, বেশ কয়েকবার। দিল্লি যে ঢাকার দাবি পূরণ করবে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কার্যক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। দিল্লির আরও একটি দাবি ছিল নির্বাচন। এই দাবি শুধু দিল্লির নয়, এই দাবি ছিল আন্তর্জাতিকমহলের। বলা হয়েছে, সেই দাবির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন পূর্বতন সরকার প্রধান। যদিও এই নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বলা হচ্ছে এটা আসলে সাজানো নির্বাচন। কে ক্ষমতায় আসবে, তা আগে থেকেই তৈরি করা ছিল। দরকার ছিল একটা সরকারি সিলমোহরের। ভোটের মধ্য দিয়ে সেই সিলমোহরের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন পূর্বতন সরকার।
ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর হাসিনার ঘরওয়াপসি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফিরতে পেরেছেন শর্তসাপেক্ষেক। শর্ত ছিল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর প্রথম দায়িত্ব হবে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রীকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে আনা। অনেকে বলছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে পরতে হবে ফাঁসির দড়ি। কারণ, তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত একজন আসামী। অপরাধ একটা নয়, একাধিক। সেই সব অপরাধের অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। অধিকাংশ মামলার রায় হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।
শেখ হাসিনা রাজনীতিবিদ হিসেবে যে বিচক্ষণ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। হাসিনা যেমন আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রেখেছেন, সম্পর্ক রেখে গিয়েছিলেন রাশিয়া ও চিনের সঙ্গেও। আর ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন ছিল তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। চিনের সঙ্গে মসৃণ সম্পর্কের কারণে পদ্মাসেতুন নির্মাণে ওই দেশের সাহায্য নিয়েছিলেন। আবার রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে পদ্মাপারে তৈরি হয়েছিল পরমাণু কেন্দ্র। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধেও ছিল বিস্তর অভিযোগ। সেই অভিযোগের বিস্ফোরণ জুলাই অভ্যুত্থান। এমনটাই মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ইউনূসকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশবাসীর মনে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। যদিও তিনি তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাইল হওয়া অডিওতে তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, দেশে তিনি ফিরছেন। তিনি এও বলেন, নতুন একটি সরকার বাংলাদেশ শাসন করছেন। দেশবাসী তাদের শাসন দেখুক। তারা বিচার করুক কোন সময়টা ভালো ছিল হাসিনার আমল না বর্তমান সময়? তখনই তিনি দেশে ফিরবেন বলে অডিও বার্তায় জানিয়েছেন হাসিন। ফাঁসির আদেশকে তিনি তোয়াক্কা করবেন না। তবে কতদিন এই সরকারের শাসন দেখার জন্য দেশবাসীকে বলেছেন, সেটা কিন্তু অস্পষ্ট। হাসিনার এই বক্তব্য থেকে ধরে নেওয়া যেতে পারে দেশে তাঁর দ্রুত ফেরার ব্যাপারে নানা প্রান্ত থেকে যা দাবি করা হচ্ছে সেটা আসলে অপপ্রচার। হাসিনা তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে দেশে ফিরবেন না।
এখন প্রশ্ন হল হাসিনাকে নিয়ে তারেক রহমান সরকার কী ভাবছে? এখনও পর্যন্ত এই সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কিন্তু হাসিনার প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।












Discussion about this post