ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধের বলি হরমুজ প্রণালী। তেহরানের দাবি, তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে কিছুটা হলেও উদ্বেগে ভারত। রাশিয়াকে বলা হয় ভারতের বন্ধু। তাই, বিপদের দিনে বন্ধুকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো রাশিয়া। মস্কোর তরফ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তেল ও জ্বালানি দিয়ে ভারতকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। ভারত যেন তেল সংকট নিয়ে অহেতুক বিচলিত না হয়। ভারত উদ্বেগে রয়েছে ঠিকই। তবে গভীর খাতে গিয়ে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যে সব জায়গায় হামলা চালিয়েছে, সেই সব অঞ্চলগুলি শুধুমাত্র সেই সব দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান কৌশলগতভাবেই এই হামলা চালিয়েছে। ইরানের কৌশলগত হামলা ধাক্কা দিয়েছে আমেরিকাকেও।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের পরিকল্লনা কী? মার্কিন শুল্কবাণের মুখে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অনেকটাই কমিয়েছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ফের মস্কোর মুখোমুখি হতে হবে ভারতকে। আমেরিকা, ভেনেজুয়েলা ব্রাজিল, পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও আমদানি বৃদ্ধি করা হতে পারে। কৌশলগত তেল মজুত ভাণ্ডারেও হাত দিতে পারে ভারত।
উল্লেখ্য, বিশ্ব বাজারে মোট অশোধিত তেলের ২০-২২ শতাংশ বাণিজ্য হয় হরমুজ দিয়ে। কিন্তু বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ। আশঙ্কা করা হচ্ছে তেহরানের এই পদক্ষেপের ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রসঙ্গত, সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোটের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ হল ইরান। মোট তেলের ১২ শতাংশ অবদান রাখে এই দেশ। দৈনিক ৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন করে ইরান। যা বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদনের ৩ লক্ষ।
ইরান সৌদি আরবের মূল জ্বালানি ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে। কাতারে এলএনজি ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে তেহরান। হামলার জেরে এলএনজি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইরানের এই হামলার ফলে শীঘ্রই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইইউ জেলেনস্কির দ্বারস্থ হয়েছে। তাঁকে তারা একটি অনুরোধ জানিয়েছে। জেলেনস্কির কাছে তাদের অনুরোধ রাশিয়ার তেলকে যেন ইউরোপে আসতে দেওয়া হয়। এই অনুরোধের কারণ যেমন হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া, পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ইউরোপে তেল নিয়ে যাওয়ার রাস্তাটি হল ইউক্রেন। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কেমন, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। এই অবস্থায় মস্কো কোনওভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ালে ইউরোপীয় ইউনিয়ের সংকট আরও গভীর হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরব আমিরশাহীর জন্য একটি সংকট তৈরি করেছে। তারা ভেবেছিল হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তারা বাইপাশ করে ফুজাইরা পোর্ট দিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে তেল বিক্রি করতে পারবে। তাদের আশায় জল ঢেলে দিয়েছে তেহরান। ফুজাইরা পোর্টে তারা হামলা চালিয়েছে।
ইরানের কৌশল কিন্তু বেশ পরিষ্কার। তারা শত্রুপক্ষের সেনা ছাউনি লক্ষ্য হামলা চালাচ্ছে। হামলা চালাচ্ছে সেই সব লক্ষ্যবস্তুতে যেখানে হামলা হলে একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল করে দেওয়া যাবে। সৌদির আরবের তৈল শোধনাগার, তেল ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে তেহরান। কাতারের এলএমজি প্রোডাকশন হাবের কথাই ধরা যাক। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে। তেহরানের বার্তা হল, এই যুদ্ধে আমরা ডুবে গেলে তোমাদের সঙ্গে নিয়েই ডুব দেব। ইসলামিক রাষ্ট্র হওয়ার পরেও তারা ইরানের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। দাঁড়িয়েছেন সেই দেশের পাশে যে দেশ মনে করে ইসলামধর্ম বিশ্বের শত্রু। তেহরান পরিকল্পনা করে দুবাই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এই বিমানবন্দরকে বলা হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান ফটক। দুবাই বিমাবন্দর আবার ইউরোপের গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে। বলা হচ্ছে দুবাই বিমানবন্দরকে কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিলে ক্ষতি হবে লক্ষ কোটি টাকা। এই ক্ষতি শুধু দুবাইয়ের হবে না। এই বিমানবন্দরের সঙ্গে যে সব দেশের যোগাযোগ রয়েছে, তারাও সমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।












Discussion about this post