দিল্লিতে রয়েছেন হাসিনা। তাঁর দলকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি। দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলের প্রতীক ফ্রিজড করা হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। তারা সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন তারেক রহমান। এই রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সেই পুরনো প্রশ্নটা নতুন করে ফিরতে শুরু করেছে – হাসিনা কি দেশে ফিরবেন? বিএনপি সরকার কি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।
সম্প্রতি তারেক রহমান একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। গণমাধ্যমের তরফে বিএনপি চেয়ারপার্সন তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রেক্ষিতে তাঁর অবস্থান কী? তারেক জিয়া আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করেননি। তবে বলেছন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির ওপর নেমে এসেছিল সরকারি শাস্তি। তারপর পদ্মা দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে। প্রায় দেড় বছর বাদে বাংলাদেশে চলতে শুরু করেছে গণতন্ত্রের রেলগাড়ি। বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই পুরনো প্রশ্ন আবার ফিরে এসেছে – হাসিনা কি বাংলাদেশে ফিরছেন? জল্পনা আরও জোড়াল হয়েছে দীর্ঘ সময়ে দেশের নানা প্রান্তে আওয়ামী লীগের দলীয় দফতর খোলার মধ্য দিয়ে। বিএনপি নেতারা এই সমস্যাকে আর বাড়তে দিতে চাইছেন না। তার একটা বড়ো কারণও রয়েছে। সেই কারণ হল জামায়াত। দলটি যদি জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে হাত মেলায়, তাহলে তারেক সরকার রীতিমতো বিপদে পড়ে যাবে। তাই, বিএনপির সামনে এখন একটাই রাস্তা খোলা। সেই রাস্তা হল জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রবেশ। একমাত্র সেটা হলেই তারা জামায়াত আর জাতীয় পার্টির মোকাবিলা করতে পারবে। সেই সম্ভাবনা উস্কে দিচ্ছেন হাসিনা
আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো দিল্লি থেকে কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি অডিও বার্তা দেন। সেই অডিও বার্তায় তিনি দলের সেই সব নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান জানান, যারা দুঃশাসনের সময় অন্যত্র চলে গিয়েছিল। হাসিনা সুষ্পষ্টভাবেই বলেছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। তাই, এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচনের আগেই দলের বহু নেতাকর্মী দেশে ফিরতে শুরু করেন। বিএনপির এমপি পদপ্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যেই বলে এসেছেন, ভুয়ো মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগের কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। প্রত্যেকে তাদের এলাকায় বিনা ভয়ে বসবাস করতে পারবেন। আওয়ামী লীগের কাউকে রাজনৈতিক হামলার শিকার হতে হবে না। ভোটের প্রচারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের দেখা গিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই – আওয়ামী লীগের ভোট তাদের ঝুলিতে টেনে আনা। অনেকে বলছেন, বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পিছনে আওয়ামী লীগের একটা বড়ো ভোটব্যাংক রয়েছে। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তো প্রকাশ্যেই এই সব কথা বলতে শোনা যায়। ভোটের প্রচারে দেখা গিয়েছে বিএনপির নেতাদের মঞ্চে দেখা গিয়েছে আওয়ামী লীগের বহু নেতাদের। তখন থেকেই কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয় যে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে একটা গোপন সমঝোতা হয়ে গিয়েছে আওয়ামী লীগের। ইতিমধ্যে সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকতে শুরু করেছেন আওয়ামী নেতারা। পবিত্র ইদুল ফিতর এবং ২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় সক্রিয় হচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। জেলায় জেলায় নেতাকর্মীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ শিবিরে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতাদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছেন।












Discussion about this post