আকসাই চিন ও অরুণাচল প্রদেশের একটা অংশ বরাবরই তাঁদের বলে দাবি করে বেজিং। অপরদিকে ভারত ওই অংশগুলি ভারতের অবিচ্ছেদ্দ অংশ বলেই দাবি করে আসছে। এরকম সীমান্ত বিবাদ দুই শক্তিশালী প্রতিবেশি রাষ্ট্রের মধ্যে বহু যুগ ধরেই বিদ্যমান। যা নিয়ে তৃতীয় কোনও দেশ খুব একটা মাথা গলায়নি এতদিন। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ এই বিবাদে ঢুকে পড়ল। বলা ভালো সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক সংঘাতের মাঝেই এবার চিনের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়ালো বাংলাদেশ। যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটা নতুন মাত্রা যোগ করল বলা যায়।
ঘটনা হল, অরুণাচলপ্রদেশ ও আকসাই চিনকে ভারতের অংশ বলে দাবি করেছে মুহাম্মদ ইউনুসের প্রশাসন। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রেগে আগুন শি জিনপিং প্রশাসন। বেজিং থেকে এর তীব্র প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়েছে। তবে নিজেদের দাবিতে এখনও অনড় ঢাকা। এমনকি নিজেদের বক্তব্য থেকে এই ইঞ্চিও সরতে নারাজ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রক। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সংঘাতের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এই অবহে চিনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে খুব স্পর্শকাতর বিষয়ে ঢাকা কার্যত নয়া দিল্লির পাশে দাঁড়াল। যা কার্যত নজিরবিহীন। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকারের আমলে দুটি পাঠ্যপুস্তক ও সার্ভে দফতরের সরকারি ওয়েবসাইটে এশিয়ার একটি ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে অরুণাচল ও আকসাই চিনের একটা অংশকে ভারতের অংশ বলে দেখানো হয়েছে। অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের এই দুই অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি জানিয়ে আসছে চিনের শি জিনপিং প্রশাসন। এমনকী ৬২-র যুদ্ধের পর আকসাই চিনের দখলও নিয়েছে বেজিং। এই দুটি এলাকা যেমন ভারতের অংশ বলে দেখানো হয়েছে, তেমনই চিনের বিরুদ্ধে গিয়ে ওই ম্যাপে হংকং ও তাইওয়ানকে স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। যা নিজেদের দেশের অংশ বলে দাবি করে আসছে চিন।স্বভাবতই চোটে লাল বেজিং। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ দাবি করেছে, এই ম্যাপ প্রকাশ্যে আসার পর গত বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকাকে চিঠি দিয়েছিল বেজিং। তাতে বিতর্কিত’ ওই ম্যাপ বদলের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় পাল্টা চিঠি দিয়ে বেজিংকে জানিয়ে দেয় ওই ম্যাপে কোনও পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে এও জানানো হয়েছে, এই ইস্যুতে চিন যেন বাংলাদেশের উপর কোনও রকম অন্যায় চাপ তৈরি না করে। অর্থাৎ, স্পষ্টতই বাংলাদেশ অরুণাচলে সীমান্ত বিবাদ নিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়ালো।
প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন প্রবল উত্তপ্ত। আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার বদলের পর বিদেশনীতিতে বিরাট বদল এনেছে মুহাম্মদ ইউনুসের তদারকি সরকার। পূর্বতন সরকারের আমলে যেমন ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের। ফলে শুরু থেকেই নিজেদের ম্যাপে অরুণা ও আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে শীতলতা এসেছে। ইদানিং ইউনূসের তদারকি সরকার পাকিস্তান ও চিনের দিকেই ঝুঁকছিল। কিন্তু আচমকাই দেখা গেল চিনের বিপরীতে গিয়ে ম্যাপ ইস্যুতে অনড় অবস্থান নিল বাংলাদেশ। কূটনৈতিক মহলের মতে এটা হওয়ারই ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতেই বিশ্বের ভূ রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদল হয়ে যায়। ট্রাম্প আকারে ইঙ্গিতে বাংলাদেশ নিয়ে বিপরীত মনোভাব প্রকাশ করতেই কাঁপুনি ধরেছে ইউনূস প্রশাসনের অন্দরে। আর সেই কারণেই চিনকে কড়া বার্তা দিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখালো তাঁরা। কূটনৈতিক মহলের আরও বক্তব্য, ম্যাপ নিয়ে চিনের আর্জি খারিজ করে ইউনুস সরকার স্পষ্ট করে দিল, সংঘাত যতই থাক দেশের সীমানা ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে গেলে ভবিষ্যতে তা বিপদের কারণ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য।












Discussion about this post