গুম, খুন ও আয়নাঘর কাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকে সবধরণের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছে সেনাবাহিনী। ১১ ই অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে সেনা সদরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এডজুটেন্ট জেনারেল মহম্মদ হাকিমুজ্জামান বলেন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনো ছাড় দেবেনা। বিচারের প্রতি সেনাবাহিনীর আস্থা রয়েছে তাই বিকল্প কোনো বিচার প্রক্রিয়ার কথা ভাবছেনা বাহিনী। ICT VS সেনা আইন এই দৃষ্টিভঙ্গিতে যারা দেখছেন তাদের এইটা না দেখাই উচিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৫ জনের ভিতরে অবসরে যারা আছেন এদের সংখ্যা ৯, এলপিয়ার বা লিভ প্রিপায়াটোরি রিটায়ারমেন্ট এ যারা আছেন এদের সংখ্যা ১ এবং চাকরিরত অফিসারের সংখ্যা ১৫। এই ১৬ জনকে ৮ তারিকে আমরা আর্মি ওন কাস্ট্যারিতে আসার জন্য এটাচমেন্ট অর্ডার দিয়েছি। ১৫ জনের মধ্যে শুধু ১ জনকেই পাওয়া যাচ্ছেনা। বাকি ১৪ জনই আমাদের সেনা হেফাজতে চলে এসেছে। NSI, BGB, DGFI সকলকে আমরা বলেছি ল্যান্ডপোর্ট, সিপোর্ট, এবং এয়ারপোর্ট যে যেখানে আছো যার যা দায়িত্ব আছে তারা চেষ্টা করবে যাতে উনি দেশের বাইরে চলে যেতে না পারে। যারা গুম হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সকলের অসম্ভব বেদনা ও দোয়া রয়েছে। দেশ নির্বাচনমুখী। আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে সব ধরণের দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত সেনাবাহিনী। আমাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ট্রেনিং, পোস্টিং সহ যাবতীয় যা আছে আমরা সাজিয়ে নিচ্ছি।
তবে সেনা সদর বলছে, এত বেশি সংখ্যক সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় সেনাবাহিনী আপসেট। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রস্ত্রুটি নেয়ার সময় এইধরণের ঘটনা সেনাদের মনোবলে প্রভাব ফেলেছে।
এই অবস্থায় মহম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং একটি বিবৃতি দিয়েছেন যা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। যেখানে ICT র প্রসিকিউশানের বরাদ দিয়ে বলা হয়েছে, গুম ও খুনের মামলায় আর কোনো সেনাকর্তাকে গ্রেফতার করা হবেনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একটি বিচারাধীন মামলার বিষয়ে সরকারের প্রেস উইং কিভাবে এধরণের নিশ্চয়তা দিতে পারে ?












Discussion about this post