আরজি করের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন ডাঃ আখতার আলি। সেই সময় তিনি ছিলেন আরজি করের ডেপুটি সুপার। পরে তাকে বদলি করে প্রথমে প্রথমে মুর্শিদাবাদ ও পরে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ডেপুটি সুপার করা হয়। সেই ডক্টর আখতার আলি ব্যাক্তিগত কারন দেখিয়ে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন। আরজি কর কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন। সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তৎকালীন আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ আখতার আলি। তার অভিযোগের পরেই আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে। সোমবার রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। তবে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কিনা সেই সম্পর্কে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি বলেন, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মুখ খোলা ও আইনে পথে যাওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাকে। দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলার পরই আমার নামে একের পর এক বদলির নির্দেশ জারি করা হয়। রাজ্য সরকার আমাকে বিরোধী মনে করে আমার বদলি করে সারা রাজ্যে ঘোরাচ্ছে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে, ওদের বিরুদ্ধে নয়, এটা আমি বোঝাতে পারছিনা। আমার ডিপার্টমেন্ট আমাকে চাকরি করতে দিচ্ছেনা। আমার ছুটি মঞ্জুর হচ্ছে না। মাইনেও বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারি চাকরি করে আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে পারছিনা। কেউ আমাকে লড়তে দেবেনা। আরজি কর নিয়ে মুখ খুলেছি এইটাই আমার অপরাধ। আমি চাকরি করতে পারছিনা। এটা সরকারি প্রতিহিংসা। হাত ধুয়ে পরে আছে আমার পিছনে। গভীর দুর্নীতি আছে এটার মধ্যে। বাংলার মানুষ আমার সাথে আছে। মুখ্যমন্ত্রী বাদে তৃণমূলের সকলেই চোর, দূর্ণীতিগ্রস্ত্র। পরবর্তীতে আমার লড়াই হবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন।
সম্প্রতি ডক্টর আখতার আলি অনলাইনে বিজেপির সদস্য পদ নিয়েছেন এবং বিজেপি তাকে বিধানসভার প্রার্থী করলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিজেপি তে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একমাত্র বিজেপি পারবে ২৬ সালে রাজ্য থেকে তৃণমূলকে সাফ করতে।
চলতি মাসে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাথে দেখা করেছিলেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, বিজেপিতে ডক্টর আখতার আলির পুরোপুরি যোগ দেওয়ার বিষয়টি একপ্রকার নিশ্চিত।












Discussion about this post