বাংলাদেশে চলছে চরম নৈরাজ্য। খুন, চুরি, ডাকাতি ঘটেই চলেছে। এমনকি ধর্ষনের ঘটনা অহরহ ঘটছে ইউনূসের দেশে। এদিকে এই সমস্ত ঘটনার রাশ টানছেন না মুহুমুদ ইউনুস। যেন সেই দায় নেই তার। এদিকে বাংলাদশের সাধারণ মানুষ অনেক ভরসা করে ইউনুসকে সিংহাসনে বসিয়েছিল। কিন্তু সেই মর্যাদা রাখছেন না তিনি।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে ২৫ তারিখ দেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি ব্রিফ করেন। জানা যাচ্ছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয় কয়েকজন ডাকাত। সেইদিন বেলা ২ তে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র ও ছাত্র দলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সেই আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও। চলে বিক্ষোভ, স্লোগান। পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এই ঘটনাগুলি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খবর করতে থাকে। ফলে নিন্দার ঝড় উঠছে বিভিন্ন মহলে।
বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলে যেতেই অপরাধ বেড়েছে পদ্মপাড়ের দেশে। চুরি, খুন, ডাকাতি, অপরাধমূলক কার্য বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে হুশিয়ারি দিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। পুলিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে খুন হয়েছে ২৯৪ খুন, চুরি ১৭১, ডাকাতি হয়েছে ৭১ এবং অপহরণের ঘটনা ১০৫। শুধু তাই নয়, নারী নির্যাতন হয়েছে ১ হাজার ৪৪০টি। যেখানে তথ্য বলছে ২০২৪ সালে জানুয়ারিতে ২৩১টি খুন, ১৪১টি চুরি, ২৯ টি ডাকাতি এবং অপহরনের ঘটনা ৪৩টি। নারী নির্যাতন হয়েছিল ১ হাজার ৪৩ টি।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি যত দিন যাচ্ছে, তত জটিল হয়ে যাচ্ছে। আর এই উত্তাপ পরিস্থিতি শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নয়, মুখ খুলেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান।
তিনি পরপর দুটি অনুষ্ঠানে মুখ খুললেন। তিনি কার্যত হুশিয়ারি দিলেন বাংলাদেশের তদারকি সরকারকে। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেনা প্রধান বলছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হচ্ছে।
অরাজক পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। এমনটা বলছেন সেনাপ্রধান। এখানে তিনটি তত্ত্ব খাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রথমত, বাংলাদেশের উপদেষ্টারা একাধিক জায়গায় বলেছেন, বাংলাদেশে কোনও অরাজকতা নেই, সুন্দরভাবে চলছে দেশ। সেখানে সেনাপ্রধান ঘুরপথে স্বীকার করে নিলেন, বাংলাদেশ বিশৃংখল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, যার উপর গোটা দেশের নিরপত্তা রয়েছে, তারই প্রধান যদি বলেন দেশকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে হবে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন?
আর তৃতীয়ত, ওয়াকার উজ জামান বুঝে গিয়েছেন, দেশ সংকটের মধ্যে পড়লে শত্রুরা তার সুযোগ নেয়।
এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় বলছেন রাজনীতিক বিশেজ্ঞরা। তারা বলছেন, সেনাপ্রধান বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে নিজের দায় থেকে এড়াতে পারেন না। দেশকে ঝঞ্ঝাট মুক্ত রাখতে তাকেও দায়িত্বও নিয়ে হবে। এইভাবে দায় এড়িয়ে গেলে চলবে না। বলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












Discussion about this post