বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই জামায়াতে আমির শফিকূর রহমান একটা হুমকি দিয়ে বসেছেন। তিনি বলেছে, বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশন তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। এমনকী পরের তিনটি অধিবেশনও মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। স্বাধীনতার পর ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ তার মেয়াদ পূরণ করে। ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালের সংসদ অধিবেশন মেয়াদ পূরণ করেছিল। বাকিগুলির কোনও বৈধতা ছিল না। আমিরের এই বক্তব্যের লক্ষ্য যে বিএনপি, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। দলের উদ্দেশ্যে তিনি ঘুরিয়ে বার্তা দিয়েছেন। সেই বার্তা হল বিএনপি যতই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করুক না কেন, তারা মেয়াদ পূরণ করতে পারবে না।
আজ ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন। সংসদে নেই কোনও স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। ভারতের মতো বাংলাদেশের অধিবেশন শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। জামায়াতের তাতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কেন সংসদে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে দলটি স্বৈরাচের দোসর বলে মন্তব্য করেছে। জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সংসদে ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনও অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। কিন্তু বিএনপি কী কারণে এটি করছে, সেটা আমরা জানি না। ” নায়েবে আমির আরও বলেন, বিএনপি কেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দিয়ে সংসদে ভাষণ পাঠ করাচ্ছে সেটা তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে দল কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা সংসদ অধিবেশনের সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
বুধবার দলের সংসদীয় বোর্ডের একটি বৈঠক বসে। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদল নেতা ডা. শফিকূর রহমান। এই বৈঠক প্রসঙ্গে তাহের বলেন, সংসদ অধিবেশনের অ্যাজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে আনুষ্ঠানিকতা, আচরণবিধি ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে দলের তরফে কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে জামাতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সংসদে প্রস্তাব আকারে এলে তখন দলের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সরকারের সঙ্গে জামাতের আরও একটি বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি অধিবেশনের প্রথম কিছু মাস সংসদ কাজ করুক সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে। বিএনপি সেই দাবিকে আমল দিতে নারাজ। তারা কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। তাদের অবস্থান হল, এই বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নেই। সুতরাং, শপথ নেওয়ারও প্রশ্ন ওঠে না। সেই সময় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, তারেক রহমান মসৃণভাবে সরকার চালাতে পারবে না।
সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে জামাতের নেতৃত্বে বিরোধী দল সংসদের এলডি হলে একটি বৈঠক করে। মূলত সংসদে বিরোধীদলের রণকৌশল কী হবে, তা নির্ধারণ করতেই এই বৈঠক। ওপর দিকে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বৈঠকে বসে। সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার কীভাবে চলবে, অধিবেশনে কোন কোন বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে, বিরোধীদের ঘায়েল করার ক্ষেত্রে রণনীতি কী হবে, সে সব বিষয়ে আলোচনা করতেই বিএনপি বৈঠকে বসেছিল। দুটি দল বুঝতে পেরেছিল, সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিএনপির তরফে বিরোধী দলকে কিন্তু একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তাটি হল, তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ফলে, জামায়াত বা এনসিপির মতো দলের সব কথা শুনে সংসদ চালাবার কোনও প্রয়োজন নেই। বিএনপি কোনও নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি যার জন্য তারা জামায়াতের ব্ল্যাকমেলের রাজনীতির শিকার হবে।












Discussion about this post