জামায়াতে ইসলামির আমির কিন্তু নির্বাচনের আগে মন্ত্রীসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে প্রচার করেছিলেন। যেখানেই তিনি প্রচারে গিয়েছেন, সেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছে এই বিষয়ে সরব হতে। তাঁকে বেশ আত্মপ্রত্যয়ী দেখা গিয়েছিল। নাহিদের এলাকা, গোলাম পরওয়ারের এলাকায় গিয়ে সরাসরি ঘোষণা করেন যে এই এলাকা থেকে তারা একজন মন্ত্রী পাবেন। তখন থেকে একটা বিষয় বাতাসে ভাসতে শুরু করে যে জামায়াতে আমির নিশ্চিত যে তারা সরকার গঠন করছে। অথবা সরকার গঠন না করতে পারলেও যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে তাদের সঙ্গে রফা করে কোনও না কোনও দফতর আদায় করে নিতে পারবেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশিত হতেই দেখা যায় যে জামায়াত নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে শুরু হয়ে গিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন। জামায়াতে ইসলামিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন বিরোধীদল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। জামায়াত নিজেরাই নিজেদের বিরোধী দল হিসেবে ঘোষণা করেছে। কী করে বিরোধী দল ঘোষণা করা হবে, সেটা সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জামায়াতে আমিরের দফতর থেকে একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠি এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, চিঠির বিষয় দল তারেকের রান্নাঘরে একজন হালুইকর, মানে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছে। সেই চিঠি নিয়ে এবার দলের তরফ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠি সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশের পররাষ্ট্র বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কিছু অবস্থান স্পষ্ট করার স্বার্থে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠানোর বিষয়ে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।
‘কিন্তু তিনি আমির কর্তৃক নির্দেশিত বিষয়াবলির বাইরে কিছু বিষয় যুক্ত করে চিঠিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বিশেষ করে চিঠিতে উল্লিখিত মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি জামায়াত আমিরের নির্দেশনায় ছিল না,’ বলা হয় বিবৃতিতে। বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিষয়টি দলের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। প্রফেসর ড. মাহুদুল হাসানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২ মার্চ ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ কাসেমকে বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পরারাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামি দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। তাঁর দাবি, কোনও বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে তারা তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে বিশ্বাস করে। আলোচ্য ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাই, আর ভুল বোঝাবুঝির কোনও অবকাশ নেই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে যাচাই করে দেখা যায়, চিঠির বিষয়বস্তু আমিরে জামায়াতকে যে ভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল, বাস্তবে তা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বিশেষ করে চিঠিতে উল্লেখিত মন্ত্রীর পদমর্যাদা সংক্রান্ত অংশে আমিরে জামায়াতের কোনো সম্মতি ছিল না। বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য রিষ্কার করার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না। পাশাপাশি জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।












Discussion about this post