শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের মধ্যেই হাসিনা বিরোধী। কারণ সরকারের ভেতর থেকে সমর্থন না থাকলে বা তথ্য আদান-প্রদান না হলে একটা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার রাতারাতি তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে পারে কি? ছাত্র আন্দোলন ও গণভবন অভিযানের জন্য যে রূপরেখা তারা দিয়েছিলেন তার উপর কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার পরে যেতে দেখা গিয়েছিল, আর যারা সিকিউরিটি এজেন্সি তারা কোন আজ পেলেন না? এটাও কি সম্ভব? নাকি দলের মধ্যে ছিল কোন মাস্টার প্ল্যান? যদি প্ল্যান হয়েও থাকে সেখানে যুক্ত ছিল অনেকগুলি এজেন্সি, তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল শেখ হাসিনারই আশেপাশের ব্যক্তিদের তরফ থেকে।
গত ৫ আগস্ট যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, তার ঠিক এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনে বাংলাদেশের ভিতরে এবং বাইরে নানা শক্তি জড়িত ছিল।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সেই সময়ে বিএনপি, জামাত, কিছু ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিকদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও মন্ত্রীও চক্রান্তের অংশ ছিলেন। বিশেষ করে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের নামও এই তালিকায়।
গোয়েন্দা রিপোর্টে বিশেষ করে আন্দোলন চলাকালে তাদের সন্দেহজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যে কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাও এই চক্রান্তের বিষয়ে অবগত ছিল এবং তাদের কাছ থেকেও কিছু তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছেছিল।
মূলত গত জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত চলছিল এবং তা আগস্ট মাসে এক বিস্ফোরক পরিণতি নিয়ে সামনে এসেছিল।
এখনও পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট চক্রান্তের বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি, তবে যে সমস্ত তথ্য এবং যোগাযোগ বেরিয়ে এসেছে, তা আরও বেশ কিছু প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।












Discussion about this post