গত শনিবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বাংলা একাডেমি চত্বরে শুরু হয়েছে একুশের বইমেলা। যা উদ্বোধন করেন তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। ঐতিহ্যবাহী এই বইমেলা এবার অন্য এক কারণে বিতর্কিত হয়ে গেল। যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেবারেই ভিন্ন মাত্রা এনে দিল। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে তৈরি করল এক জঘন্য ট্রেন্ড। সেটা হল “হাসিনা বিন”। সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবি সাঁটা ডাস্টবিন রাখা হয়েছে একুশে বইমেলা চত্বরে। সেখানে হাসিমুখে নোংরা ফেলার ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এবার সেই ট্রেন্ডে নতুন মাত্রা দিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দেলনের অন্যতম সমন্বয়ক তথা বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনিও একুশে বইমেলা চত্বরে রাখা “হাসিনা বিনে” নোংরা ফেলার ছবি পোস্ট করলেন।
গত ৫ আগস্টে গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ছয় মাসের মাথায় হচ্ছে একুশে বইমেলা। স্বভাবতই জুলাই-অগাস্ট গণ বিপ্লব নিয়ে শতাধিক বই প্রকাশিত হচ্ছে এবারের বইমেলায়। আরও একটি বিষয়ে, এবারের একুশে বইমেলায় প্রথমবার স্টল দিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দেলন। তাঁরাই এই জঘন্য পরিকল্পনা করেছে। তাঁদের স্টলের বাইরে রাখা হয়েছে কয়েকটি ডাস্টবিন, যার গায়ে সাঁটা রয়েছে শেখ হাসিনার ছবি। জানা যাচ্ছে, জুলাই-অগাস্ট গণ বিপ্লবের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে শেখ হাসিনার একটি ম্যুরালে জুতো মেরেছিল জনতা। সেই ছবিই শোভা পাচ্ছে বইমেলায় রাখা ডাস্টবিনের গায়ে। আর সেখানে প্রথম নোংরা ফেলে বিতর্কের সূচনা করেন মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত শনিবার বিকালেই অনেকগুলি ছবি পোস্ট করেন। তাতেই দেখা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার ছবি দেওয়া ডাস্টবিনে তিনি হাসিমুখে নোংরা কাগজ ফেলছেন। এবং ক্যাপশনে লেখেন, ‘শনিবার বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলার প্রথম দিনে ডাস্টবিনে জঞ্জাল নিক্ষেপ।’
তাঁর ওই ফেসবুক পোস্টের পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে তুমুল হট্টগোল সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটাকে নোংরা ও কদর্য মানসিকতার পরিচয় বলে মত প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ এটাকে সমর্থনও করেছেন। প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ওই পোস্টের পরদিনই অর্থাৎ মেলার দ্বিতীয় দিনেই একই কাজ করলেন বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যাচ্ছে তিনি বই মেলায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনের স্টলে গিয়ে হাসিনার ছবি দেওয়া ডাস্টবিনে ময়লা ফেলছেন। এরপর তিনি স্টলে রাখা ভিজিটর বুকে লেখেন, ‘হাসিনা বিনের জন্য ধন্যবাদ এবং প্রকাশনা এবং সুভ্যেনির গুলো ভালো হয়েছে।’
যদিও একুশে বইমেলার প্রথম দিনেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ওই ডাস্টবিনের একটি ছবি শেয়ার করে সেখানে লিখেছিল, ‘আজ থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা-২০২৫। বইমেলায় এলে আপনার হাতের অপ্রয়োজনীয় ময়লা-আবর্জনা ডাস্টবিনে ফেলতে ভুলবেন না। মেলার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সুন্দর রাখুন, আবর্জনামুক্ত থাকুন”। উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত একটি ডাস্টবিন স্থাপন করে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গোটা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে আওয়ামী লীগও। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমি অপসংস্কৃতির ধারক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম মুখে আনতে চাই না। সমাজমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, মহান একুশের বইমেলাকে এই জাতীয় কুৎসিত ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণা ছড়ানোর মঞ্চ করে তোলাকে মানুষ ভালভাবে নিচ্ছে না। বাংলাদেশের সমাজমাধ্যমের বহু পোস্টেও এই বিষয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, মহান একুশের বইমেলাকে এই জাতীয় কুৎসিত ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণা ছড়ানোর মঞ্চ করে তোলাকে মানুষ ভালভাবে নিচ্ছে না। একুশের বইমেলা গোটা জাতির মিলন ক্ষেত্র। সেখানে অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা শেখ হাসিনার মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যেভাবে কুৎসিত আক্রমণ করছে তাতে বুঝতে হবে আজকের বাংলাদেশে কোনও দল, নেতাই নিরাপদ নয়। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তুমুল সমালোচিত হন।দেখা যায়, বহু মানুষ তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছবি দেওয়া ডাস্টবিন সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। এতেই চোটে যান শফিকুল আলম। তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে ফের একটি নাতিদীর্ঘ পোস্ট লেখেন। এবং সেখানে শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের কসাই’ ও ‘গুমজননী’ বলে উল্লেখ করেন।











Discussion about this post