বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ছাত্রনেতারা চাইছে, মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলতে। এবং তারা প্রমাণ করতে চায়, মুক্তিযুদ্ধের থেকে সবথেকে বড় আন্দোলন ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থান। এমনকি ৭২ এর সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিতে চাইছে। এবং তারা শুধু মাত্র ২০২৪ সালের গনঅভ্যাথনকে বড় করে দেখাতে চাইছে তাই নয় তারা ৪৭ সালের ভারত, পাকিস্তান ভগকেও বড় করে দেখাতে চাইছে। এতদিন পর্যন্ত যে সমস্ত কথাগুলি শোনা যেত, সেগুলি এখন সঙ্ঘবদ্ধ রুপ দেখা যেতে পারে। এর আগে ৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস ক্লাবে মহম্মদ আলির জিন্নার জন্মদিন, মূত্যুদিন পালন করা হয়েছে। তখনও সরকার কোনও বাধা দেয়নি। রাজনৈতিক বিশেষজ্জরা মনে করছেন, তখন থেকেই পাকিস্তানপন্থী মনোভাব বীজ বপন করা হয়েছে। যার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেখা গেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে ১৪ ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্লোগান এবং মিছিল। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন হয়। এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এটি করেন কিছু রাজনৈতিক দলের গোষ্ঠী।
৭১ কে দূরে সরিয়ে দিয়ে ৪৭ টি প্রতিষ্ঠা করা, এবং তার সঙ্গে ২৪ কে একত্রিত করে গৌরবময় করে তুলতে চাইছে বাংলাদেশের ছাত্র নেতা থেকে শুরু করে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যেই রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বক্তারা বলার চেষ্টা করলে, ৪৭ এ পাকিস্তান না হলে আমরা হিন্দুস্তানের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকতাম। তারা বলছেন, ব্রিটিশ দখলদারদের ১৯০ বছরের উপনিবেশিকতা মুক্ত হয়ে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্ম না হলে, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র পেতাম না। বরং হিন্দুস্তানের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে নির্যাতিত এবং নিপীড়িত হয়ে থাকতে হতো। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের পাশাপাশি স্বাধীনতাকেও বরণ করতে হবে। এগুলি বলছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। অর্থাৎ তারা ৪৭ কেই সমস্ত কিছু বলে উল্লেখ করছেন।
তবে হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলন না করলে এই স্বাধীনতা আরও আগে আসতো বলে মন্তব্য করেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আজকে ভারতবর্ষ আমাদেরই শাসন করার কথা ছিল। নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার শিক্ষিত জেনারেশন আমরা সাতচল্লিশের আগেই পেয়ে যেতাম। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা এরা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ছিল, মুসলমানদের বিরোধী ছিল। এদের কারণে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ায় আমরা ১৯৪৭ সালের আগে স্বাধীনতা পাইনি।
১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার আগে বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে সৈনিক না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনারা না থাকলে পূর্ব বাংলার পরিণতি হায়দরাবাদের মতো হতো। কিন্তু তারা আমাদের দেশ পাহারা দিয়েছে। আমাদের সৈনিক বানিয়েছে। শেরেবাংলা একে ফজলুল হক বাঙালি সেনাদের একবেলা ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করায় আমরা সৈনিক হতে পেরেছি। সৈনিক হওয়ার পর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বাঙালি সেনারা বীরত্ব দেখিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ করেই বাংলাদেশের সরকার পাকিস্তানপন্থী কেন? কেন তারা মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যেতে চাইছে? এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে বাংলাদেশ সরকারের একটা বিবৃতি জারি করে বলে দেওয়া উচিত, আসলে বাংলাদেশের মানুষেরা ৪৭ এর উত্তরসূরী নাকি একাত্তরের উত্তরসূরী!












Discussion about this post