বাংলাদেশের এক বিমানঘাঁটি নিয়েই ঘুম হারাম নরেন্দ্র মোদির। একদিকে পাকিস্তান অন্যদিকে নেপাল, সাথে ভুটান,শ্রীলঙ্কা তো আছেই। এবার বাংলাদেশ থেকে চেপে ধরার আশঙ্কায় দিশেহারা দিল্লি। হাসিনার পতনের পর ভারতের চোখে চোখ রেখে একের পর এক পদক্ষেপে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশের লালমনিরহাটে একটি সম্ভাব্য মাল্টিফাংশনাল বিমানঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, ভারতীয় গণমাধ্যম অনলাইন এনডিটিভির বিশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ লালমনিরহাটে বিমানবন্দর চালু করলে ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেবে ভারত। লালমনিরহাটে বিমানবন্দর চালু করার ঘোষণার পর ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহরের পুরোনো একটি বিমানবন্দর সংস্কারের কাজ শুরু করেছে দেশটি। এটি বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হলেও ধারণা করা হচ্ছে- যুদ্ধকালীন সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমানগুলোর উড্ডয়ন, অবতরণ এবং জ্বালানি ভরার সুযোগ করে দেয়ার সুবিধাযোগ্য করে তোলা হচ্ছে।
এতে বলা হয়, চিনের সহযোগীতায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার লালমনিরহাটে অবস্থিত একটি বিমান ঘাঁটি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। যেটি রংপুর বিভাগে অবস্থিত। যা ভারতীয় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের লোকদের কাছে উদ্বেগের বার্তা দিয়েছে।
তারা মনে করছে, লালমনিরহাটের বিমান ঘাঁটিটি পুনরায় সক্রিয় করার ফলে আক্ষরিক অর্থেই দিল্লির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে বেইজিং। কেননা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ওই বিমান ঘাঁটির দুরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। এছাড়া শিলিগুড়ি করিডোর থেকেও লালমনিরহাটের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। যেটি মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত ভূমি নিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই করিডোরটি চিকেন নেক নামেও পরিচিত। যার পশ্চিমে নেপাল এবং উত্তরে ভূটানের সীমান্ত রয়েছে। এ দুদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্থিতিশীল। এছাড়া ২০১৮ সালে বিলুপ্ত ২৪০ বছরের পুরনো হিন্দু রাজতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে নেপালের জনগণ।
চিনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ বিমান ঘাঁটিটি পুনরায় সচল করে তাহলে সেখানে চিন তাদের সামরিক সরঞ্জাম- যুদ্ধবিমান, রাডার ও নজরদারির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কিছু রাখতে পারে বলে ভারতের শঙ্কা। এই উদ্বেগের কারণে ভারত উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহরে তিন দশকের পুরনো একটি বেসামরিক বিমানবন্দরের সংস্কার কাজ শুরু করেছে। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে চিনের উপস্থিতির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে ছিলেন হাসিনা। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনে তার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, সেটি ভারতের প্রতি ‘কম বন্ধুত্বপূর্ণ’। এসব বিষয় মাথায় রেখে লালমনিরহাটে পুনরায় বিমানবন্দর চালু করার বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে নিয়েছে দিল্লি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় কৌশলগত হাব, যা সামরিক ও বেসামরিক উভয় উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য হবে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সবসময়ই স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, “বাংলাদেশ নিজের স্বার্থে নিজের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা আমাদের ভূখণ্ডে কী করব, তা নিয়ে অন্য কোনো দেশের অনুমতির প্রয়োজন নেই।”
বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ভারতীয় একটি শীর্ষ সামরিক প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের সময়েই জেনারেল ওয়াকারের আকস্মিক লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও সফর এই জল্পনাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম নর্থ-ইস্ট নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেনাপ্রধানের এই সফর সাধারণ কোনো পরিদর্শন ছিল না, বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার এক জটিল সমীকরণ।
এই বিমানঘাঁটির অভ্যন্তরে একটি বিশিষ্ট হ্যাঙ্গারের নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র কংক্রিটের মেঝে ছাড়া বাকি সব কাজই প্রায় শেষ হয়েছে। এই হ্যাঙ্গারটি অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড এরোস্পেস ইউনিভার্সিটির দিকে অবস্থিত এবং ভবিষ্যতে এটিকে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন মোতায়েন ও পরিচালনার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, ঘাঁটিটির ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়েটিও শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে খবর। বিমানবাহিনীর কর্মীরা দ্রুত চলাচলের জন্য সাইকেল ব্যবহার করছেন এবং ১,১৬৬ একর জুড়ে বিস্তৃত এই সামরিক ঘাঁটিতে চব্বিশ ঘণ্টাই টহল দেওয়া হচ্ছে।
চিকেন নেক ইস্যুতে চিন এবং ভারত উভয়ে বাংলাদেশকে কাছে পাওয়ার চেষ্টা করছে। সঙ্গত কারণেই লালমনির হাট বিমানবন্দর চালু হোক সেটা ভারত কোনওভাবেই চাইবে না। লালমনির হাট বিমানবন্দর চালু হলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ তাদের আধিপত্যবাদ কায়েম করতে পারবে। প্রশ্ন হল, পূর্বতন সরকার লালমনির হাট বিমানবন্দর সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছিল বর্তমান সরকার কি সেই উদ্যোগ নেবে? না কি ভারতের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বিমানবন্দরের সংস্কারকাজ বন্ধ রাখবে।












Discussion about this post