জুলাই আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় বাংলাদেশে। মৃত্যু হয় বহু মানুষের। এইবার
সামনে এল জাতিসংঘের মানবধিকার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে বিস্ফোরকোভাবে বলা হয়েছে, হত্যার সমস্ত দায় শেখ হাসিনার। গুলি চালানো, গ্রেফতার, হত্যার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মানবধিকার কমিটির হাই কমিশনার ভলকার টার্ক বলেন, মোহাম্মদ ইউনুস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে সাহায্য করেছেন। বাংলাদেশে পুরোনো সরকার দায়ী দেশের অন্দরে শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার জন্য। তবে আমরা প্রস্তুত দেশকে সাহায্য করার জন্য। দেশের মানুষের বিশ্বাস পুনুরুদ্ধার করতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি প্রয়োজন। মানবধিকার কমিশন বাংলাদেশের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ঘটনা প্রসঙ্গে রিপোর্ট পেশ করতে গিয়ে তারা হাসিনাকে দায়ী করেছে। তাদের তরফে রয়েছে একাধিক পরামর্শ। র্যাব ও এনটিএমসিকে বিলুপ্ত করা। অবাধ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করা।
তবে এই রিপোর্ট কি পৌঁছেছে ভারতের হাতে? এবার কি বাংলাদেশে শান্তি সেনা পাঠাবে ভারত? যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেরকম পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। কিন্তু যত দিন এগোচ্ছে, ততই বাংলাদেশে খবরের ঘনঘটা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা তো রয়েছেই। এমনিতেই গোটা বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত রয়েছে পরিস্থিতি। কবে নির্বাচন হবে, প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক দলগুলি। এমনকি নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ডাক দিয়েছে নাগরিক কমিটির সংগঠক সারজিস আলম।
রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে, দেশের পরিস্থিতি তখনই আয়ত্তে আসবে যখন একটি স্থায়ী সরকার দেশে আসবে। সেটা অবশ্য দেশের জনগণের নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার। তবে এটাও প্রবলভাবে চিন্তার, যেভাবে বাংলাদেশে পুলিশ প্রায় নিষ্ক্রিয়, সেনাবাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে কিভাবে নির্বাচন হবে? যদি ক্ষমতার অলিন্দে থাকা ক্ষমতাশালীরা সেনাবাহিনীর একাংশ বা পুলিসকে নিয়ন্ত্রণ করে তবে, নির্বাচন কতটা স্বচ্ছভাবে হবে, সেটাই ভাবাচ্ছে।
তারমধ্যে জাতিসংঘের মানবধিকার যে রিপোর্ট পেশ করেছে, সেখানে এটা স্পষ্ট, বাংলাদেশ বিশৃংখল অবস্থায় রয়েছে। কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, পুরোপুরি নয়। কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষেরা বিভিন্ন আওয়াজ তুলছে। বিকল্প ক্ষমতায়ন চাইছে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হতে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে।












Discussion about this post