প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমান আসীন হওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসনে বড়ো ধরনের রদবদল ঘটান। আর সেই রদবদল জন্ম দিয়েছে একাধিক জল্পনার। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তাহলে সেনাবাহিনীতেও বড় ধরনের রদবদল ঘটাতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক? দলের নীতি নির্ধারণ মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে বর্তমান সেনাপ্রধানকে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অব্যাহত দেওয়া হতে পারে। যদি শেষপর্যন্ত বাহিনীতে ওয়াকার যুগের অবসান ঘটলে পরবর্তী সেনাপ্রধান কে হবে, জল্পনা চলছে তা নিয়েও। যে সেনাপ্রধানের জন্য ইউনূস নির্বাচনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেল। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হলেন। সেই বিএনপি সরকারের আমলেই ওয়াকারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চয়তা। ২০২৪-য়ের জুলাইতে বাংলাদেশের রাজপথে সন্ত্রাসী হামলা থামাতে সেনাপ্রধান ওয়াকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। অভিযোগ, সেনাপ্রধান ওয়াকার সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন। ফলস্বরূপ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছে। সেদিন থেকে বাংলাদেশে শোনা যায়, ২৪-য়ের জুলাই অগাস্টে আসলে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। ইউনূসকে সামনে রেখেই হয়েছে এই অভ্যুত্থান। সেনাপ্রধান ওয়াকারউজ্জামান সে সময় বলেছিলেন, বাহিনী জান মালের রক্ষা করবে। বিদেশি মদতে ইউনূস বাংলাদেশকে ভয়াবহ অবস্থায় রেখে শেষ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি চাপের মুখে পড়ে ইউনূস নির্বাচনের কথা জানান। সেনাপ্রধান ওয়াকারও তার ওপর চাপ তৈরি করেছিল। একটি সাজানো গোছানো নির্বাচন করিয়ে ইউনূস বিদায় নিয়েছেন। বিএনপি চেয়াপার্সন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কার্যত তাকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়। তারেক প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন। খবর কিন্তু ভিন্নকথা বলছে।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রশাসনে বড়ো ধরনের রদবদল ঘটান। এটা রুটিনমাফিক কাজ নয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তারেক রহমান। তিনি এবার তাঁর ক্ষমতাকেও নিরঙ্কুশ করতে চাইছেন। সে কারণে প্রথমে পুলিশমহল রদবদল ঘটান। এবার সেনাবাহিনীতেও তিনি রদবদল ঘটাতে চাইছেন। পুলিশের আইজিপি বাহরুল আলমকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই রদবদল নিয়ে প্রশাসনে একটি অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং অন্যান্য মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাহরুল আলমকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। সরকারভাবি ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
এই রদবদল থেকেই প্রশ্ন উঠছ – এবার পালা কি সেনাপ্রধান ওয়াকারের? রাজনৈতিকমহল মনে করে, ওয়াকারকে তারেক তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেবেন। প্রথম তাঁকে ওই পদে নিয়োগ করেন হাসিনা। হাসিনার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সম্পর্ক আত্মীয়তার। সুতরাং, তিনি কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন, তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে? রাজনৈতিকমহল এও বলছে, তারেকের নজরে একা সেনাপ্রধা নন, বাহিনীর আরও কয়েকজন পদস্থকর্তা রয়েছে। তাদেরকে তিনি আর বাহিনীতে রাখতে নারাজ। মেয়াদ শেষের আগেই তাদেরকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেনাবাহিনীকে নিজের হাতের মুঠোয় রাখতে না পারলে, হাসিনা সরকারের সঙ্গে বাহিনী যা করেছেন, এই সরকারের সঙ্গে তেমনটি করবে না বলে তারেক নিশ্চিত হতে পারছেন না। বিএনপি সরকারের ভিতরে এবং বাইরে, দলের নীতি নির্ধারনী কমিটিতেও এই নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সেনাপ্রধানের বিষয়ে তারেক কী করবেন, সেটা তিনি তাঁর দলে আলোচনা করেননি। তবে সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, জেনারেল ওয়াকারকে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরিয়ে দিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহল বলছে, ২৪-য়ের অগাস্টে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর যে সেনাপ্রধান ওয়াকার, সেটা এখন ওপেন সিক্রেট। এখন এটাই দেখার দরকার যে সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর পদে আর কতদিন থাকতে পারেন।












Discussion about this post