তারেক রহমান মুখে কম কথা বললেও মনে মনে দেশের উন্নয়নে অনেক প্ল্যান করেছেন। শনিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে অল্প কথায় প্রশ্নের উত্তর দিলেও ভিতরে ভিতরে যে দেশকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
ভারতের দ্য পায়োনিয়ার পত্রিকার এক সাংবাদিক তারেক রহমানেক প্রশ্ন করেন – I have a question to PM in waiting. What is your foreign policy plan and how you see India and Bangladesh relations? We are the not immediate neighbour But… yeah…., we share culture and everything. So your comment on India and Bangladesh relation and Second one, which is very much related to ICT. Do you going to review and scrutiny the verdict and the decision has made by the ICT? Thank you so much. ”
জবাবে তারেক বলেন, “ Thank you so much. I think we have clear ourselves regarding the foreign policy, which is… the interest of Bangladesh and interest of Bangladeshi people comes first, by protecting the interest of Bangladesh and people of Bangladesh will decide our foreign policy. Thank you”
বোঝা যাচ্ছে তিনি “কথা কম, কাজ বেশি নীতিতে” বিশ্বাসী। অবস্থান বোঝা যাবে তাঁর কাজে। ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের প্রচারের ইচ্ছে নেই তাঁর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর “মিট দ্য প্রেস” অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের সাংবাদিকেরা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে জানতে চেয়েছেন। জবাবে তারেক বলেন, “তার সরকারের পররাষ্ট্র নীতিতে সবার আগে স্থান হবে বাংলাদেশের স্বার্থকে।” নির্বাচনী ইস্তেহারেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকেও। ডাকা হয় চিন সহ অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও। বিএনপির পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্য দিয়ে তিনি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে তাঁর সরকার ভারতের সঙ্গে সুস্থ এবং স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়।
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছিল। মনে করা হচ্ছে ঢাকার তরফে যেমন একটা পদক্ষেপ করা হবে, সাউথব্লকের তরফ থেকেও সমান পদক্ষেপ করা হবে। যদিও তারেকের শপথে মোদি যেতে পারেননি। পরিবর্তে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। এই প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টির প্রসঙ্গ তোলা যেতে পারে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফেরার কোনও সম্ভাবনা আপাতত দেখছে না সাউথব্লক। বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যে সাউথব্লক মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত, সেই বার্তা দিতে জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে পাঠানো হয়েছিল ভারতের বিদেশ সচিব এস জয়শঙ্করকে। জয়শঙ্কর গিয়েছিলেন সেনাবিমানে। তারেকর সঙ্গে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির লেখা বিশেষ চিঠি তাঁর হাতে তুলে দেন। এই সাক্ষাৎকারের পর ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কের পুরনো সংজ্ঞা বদলে যায়।
তলে তলে তারেক রহমানের কাজের পরিকল্পনা তৈরি। তবে তারেক তাঁর পরিকল্পনার কথা ঢাকঢোল পিটিয়ে করতে চান না। এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় স্মরণ করা যেতে পারে। দেশে ফিরে তারেক দেশবাসীর উদ্দ্যেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণেও তিনি বলেছিলেন I have a plan. সাংবাদিক সম্মেলনে অতি কথনের জন্য বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে যান বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। তারেক সেই পথে হাঁটারল পক্ষপাতি নন। অন্যদিকে, নিজের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলে তাকে বাধাগ্রস্ত করতে চান না তারেক। কারণ, তারেক জানেন, তিনি আগামীদিনে যে পদক্ষেপ করুন না কেন জামাত, তাকে ভারতের হয়ে দালালি বলে ট্যাগ করা চেষ্টা করবে। তাই, সব কিছু আস্তিনের নীচে রেখে দিতে চাইছেন জিয়াপুত্র।












Discussion about this post