বাংলাদেশের সেনানিবাসে বেশ গুরুতর কিছু ঘটছে সেই জল্পনা ছড়িয়েছিল বিভিন্ন মহলে। সেনানিবাসে বেশ কিছু দল তৈরি হয়েছে সেনা জওয়ানদের মধ্যে সেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পেশ করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। বাংলাদেশের সেনানিবাসে কিছু একটি ঘটছে সেই আন্দাজ বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলেই পাওয়া গিয়েছে কিন্তু তারা বিষয়টিকে গোপনে রেখেছিল এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি স্পষ্ট হল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনানিবাসে একাধিক মেরু গঠনের খবর আসছে। তার জেরে ইসলামিক কট্টর পন্থীদের মদতে সেখানে কোন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে কিনা সেদিকেই নজর রাখছে ভারত। সূত্রের খবর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ ফয়সুর রহমান দখল নিতে সক্রিয় বলে ধারণা তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ডিজিএফআই এর ডিজি পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন, আর এই দায়িত্ব পাওয়ার পরই মেজর জেনারেল থেকে জেনারেল পদোন্নতি পান তিনি। তিনি এখন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল।
গত সপ্তাহেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার সমর্থন সেনারই একটি অংশের থেকে জোগাড় করার চেষ্টা করছেন তিনি।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা শাখার সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরীর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তিনি নতুন বছরে অর্থাৎ চলতি বছরের একদম প্রথম দিনে বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রথম আলো একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সেখানেই তিনি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। এমনকি সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দিবেদি জানিয়েছেন ঢাকার সঙ্গে নয়া দিল্লির খুব মজবুত একটি সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। সে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী ও নেতৃত্বের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে তা জানে সাউথ ব্লক। তাই সতর্কতার সঙ্গে এই বিষয়টিকে নজর রাখা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের খবর, বাংলাদেশে বেশ কিছুটা চাপে রয়েছেন সেনাপ্রধান। তিনি মধ্যবর্তী পন্থা নিয়ে ভারসাম্যের পথেই রয়েছেন। কিন্তু সেনার ভিতরে তার বিরোধী গোষ্ঠী আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
কূটনৈতিক সূত্রে খবর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ ফয়জুর রহমান জামাতে ইসলামীর কট্টর সমর্থক বলেই পরিচিত। জামায়াতের অফিসার অনেক সময় সেনাদের পাশে থেকেছেন। পাকিস্তানের আইএসআই এর মধ্যেও তার মিত্র রয়েছে বলে খবর। বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাসে প্রজাতন্ত্র দিবসের যে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই অনুষ্ঠানে মোঃ ফয়জুর রহমানকে ভারতীয় দূতাবাস ডেকে পাঠান। সেখানে বাংলাদেশের সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান মধ্যপন্থা অবলম্বন করে চলছেন, কিন্তু বাংলাদেশের অনেকেই হয়তো তাকে বর্তমান পরিস্থিতির মূল চক্রে হিসেবেই দেখছেন। তবে সেনানিবাসের এই ঘটনা সামনে আসতেই বোঝা যাচ্ছে বেশ কিছুটা চাপেই রয়েছেন সেদেশের সেনাপ্রধান।












Discussion about this post