আওয়ামীলীগ এর কর্মীরা তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় লিফলেটের মাধ্যমে হাসিনার দেশে ফেরার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে। আর এই কর্মসূচিকে প্রতিহত করতে চাইছে সরকার ও পুলিশ।
এবার পুলিশের গাড়ি থামিয়ে পাবনার সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা আবদুল ওহাবকে ছিনিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশের সাধারণ জনতা। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
ওই আওয়ামীলীগ নেতা জেলা শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলার আসামি।
সামজমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওহাবকে গ্রেপ্তার করে গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় স্থানীয় জনতা দৌড়ে এসে গাড়ি গতিরোধ করে এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওহাবকে গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেন।
স্থানীয় জনতা জানান, আসরের নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন ওহাব। এ সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মুহূর্তেই এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মথুরাপুর, নারায়ণপুর, ভবানীপুর, বলরামপুরসহ কয়েকটি গ্রামের শত শত লোক এসে জড়ো হন এবং পুলিশের গাড়ি থামিয়ে ওহাবকে ছিনিয়ে নেন।
এর পাশাপাশি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মাসব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসাবে আওয়ামী লীগের লিফলেট বিতরণ করার সময় সাফায়েত নামে এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার খান সাবেশ শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে আহত পুলিশ সদস্যদের নাম জানাতে পারেননি ওসি।
টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খোরশেদ আলম জানান, আওয়ামী লীগের কর্মসূচির অংশ হিসাবে লিফলেট বিতরণ করছিল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাফায়েত নামে এক কর্মীকে গ্রেফতার করে। এ সময় অন্যান্য নেতাকর্মীরা সাফায়েতকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে ঘেরাও করে রাখে। পরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৮ জন আহত হন বলে খবর।
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই সমস্ত ঘটনা গুলিকে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাচ্ছে,আওয়ামীলীগ এর এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ নাগরিকের শেখ হাসিনার ওপর যে আস্থা তৈরি হয়েছে তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।












Discussion about this post