বিগত দশক গুলির দিকে নজর রাখলে দেখা যাবে, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বা নেতৃত্ব, বরাবরই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করেছে। ভারত আমেরিকার সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। তবে এটাও ঠিক, এই সম্পর্কে যে কখনো সমস্যা আসেনি তা কিন্তু একেবারেই নয়। বাইডেনের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক অবনতি হয়েছিল। বিশেষ করে খালিস্তানি ইস্যুতে এই সম্পর্ক আরো তলানিতে পৌঁছয়। দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন মুলুকে আসীন হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক কোন জায়গায় পৌঁছবে, নীতি ঠিক কি হবে সেই নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হচ্ছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। সেগুলি ভারত কিভাবে মোকাবিলা করবে, এবং দেশকে নিরাপদে রেখে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ভারতের স্ট্যাটিজি ঠিক কি হবে, আলোচনা করব আজকের প্রতিবেদনে।
বর্তমানে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক হল, মাল্টি সেক্টরাল। অর্থাৎ দুই দেশের সম্পর্ক একটিবার দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, তার মধ্যে রয়েছে অনেকগুলি দিক। ফলে দু একটা ক্ষেত্রে যদি সমস্যা তৈরি হয়, সেখানে দু দেশের সম্পর্কে ছেদ পড়ার সম্ভাবনা কম। দেশের বাণিজ্য, নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, মহাকাশ প্রযুক্তি, পরমাণু প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, সামরিক ক্ষেত্রে এবং রাজনৈতিক পরিসরে সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যদি সাম্প্রতিকলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের বক্তব্যগুলিকে লক্ষ্য করি, সেখানে দেখা যাবে, তিনি কয়েকটা বিষয়ে খুব জোর দিয়েছেন। এরমধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অভিবাসন নীতি। যেটাতে প্রবলভাবে ট্রাম্পের প্রশাসন চাপ সৃষ্টি করবে সেটা স্পষ্ট। কারণ অবৈধ অভিবাসন, আমেরিকায় বসবাসকারী মানুষের করের টাকায় একটা বড় বোঝা। এই কারণেই ট্রাম্প অভিবাসন নীতিটিকে কঠোর করতে
চান। এক্ষেত্রে যদি ভারতের দিক থেকে দেখার চেষ্টা করি, ভারতের এই বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। কারণ ভারত থেকে আমেরিকায় অবৈধ অভিবাসন হয় না বললেই চলে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে প্রতিরক্ষার বিষয়টি। এটা স্পষ্ট, ট্রাম্প চায় বিশ্বের পরিসরে চীনের আধিপত্য কমাতে। চীনের শক্তি বৃদ্ধি হোক এটা মোটেই চাননা ট্রাম্প। ইন্দ স্পেসিফিক অঞ্চলে চীনের দাপট কমাতে একমাত্র ভরসা ভারতই। এখানেই পরিষ্কার, ট্রাম্প কোনওভাবেই ভারত বিরোধী পদক্ষেপ করতে পারবেন না।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে, আমেরিকা এবং ভারতের সম্পর্ক আরও বেশি করে শক্তিশালী হবে। দুই দেশ পরস্পর স্বার্থ পরিপন্থী। কাজেই, এখন সবার নজর ফেব্রুয়ারিতে। এই ফেব্রুয়ারিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। আর সেই বৈঠকে কোন কোন বিষয়গুলি উঠে আসে।












Discussion about this post