ভারত সফরে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি নয়া দিল্লিতে এক বহুজাতীক গোয়েন্দা সম্মেলনে যোগদান করতে এসেছেন যার আয়োজক ভারত। বলতে গেলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সভাপতিত্বে এই আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এই সম্মেলন এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন দক্ষিণ এশিয়ায় একটা বড় ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। একদিকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বেলুচিস্তানে বিদ্রোহ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখানে বালুচ লিবারেশন আর্মি আস্ত একটা ট্রেন হাইজ্যাক করেছিল। পাকিস্তান ভেঙে টুকরো হওয়ার মুখে। অন্যদিকে মিয়ানমারেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি জোরদার লড়াই চালাচ্ছে সেনাশাসকদের থেকে মুক্তি পেতে। আবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও জঙ্গিবাদ, ইসলামী মৌলবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ আবার পূর্ব পাকিস্তান হতে চাইছে। যা ভারতের কাছে বড়সড় হুমকি বলেই মনে করা হচ্ছে। ঠিক এই আবহেই নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বড়সড় গোয়েন্দা সম্মেলন। যেখানে উপস্থিত আছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড, যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা প্রধান রিচার্ড মুর, কানাডার গুপ্তচর প্রধান ড্যানিয়েল রজার্স-সহ অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড এবং আরও বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের গোয়েন্দা প্রধানরা। মোট ২০টি দেশের গোয়েন্দা প্রধান এই বৈঠকে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করলেন। এই সম্মেলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল তুলসী গ্যাবার্ডের যোগদান। কারণ তিনি সম্মেলনের ফাঁকে আলাদা করে দুটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। প্রথমটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে এবং দ্বিতীয়টি হল ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে।
কূটনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুটি বৈঠকেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ আসবে। উল্লেখযোগ্য, এই গোয়েন্দা সম্মেলনে পাকিস্তান বা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে বোঝাই যাচ্ছে তাঁরা এই মুহূর্তে কতটা গুরুত্বহীন। কারণ এই ধরণের সম্মেলন আনেক আগেই ঠিক হয়ে থাকে এবং আলোচনার বিষয়বস্তুও ঠিক হয়ে থাকে। তাই ধরেই নেওয়া যায়, সম্মেলনে পাকিস্তান বা বাংলাদেশের বর্তমান প্রসঙ্গ ও জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে জোরালো আলোচনা হবে। এমনকি বড় কোনও পরিকল্পনাও হতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে এখন এক নতুন সমস্যা হিসেবে মাথাচাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরের ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনার পতন এবং মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে জঙ্গিদের ছাড়পত্র দেওয়া শুরু হয়। একের পর এক শীর্ষ জঙ্গিনেতাকে যেমন জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তেমনই জঙ্গি সংগঠনগুলির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা তুলে কড়াকড়ি কমিয়ে আনা হয়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এই বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডের সঙ্গে আলোচনায় তুলেছেন বলেই সূত্রের খবর। পাকিস্তানের উস্কানিতেই কার্যত মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকার পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশকে মুসলীম দেশ করতে তৎপর জামায়তে ইসলামী এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। অন্যদিকে পাকিস্তান নিজের দেশকে বাঁচাতে না পেরে ফের ভারতের ওপর দোষারোপ করা শুরু করেছে। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ভারতকেই দায়ী করছে পাকিস্তান। তুলসী গ্যাবার্ডের সঙ্গে আলোচনায় সেই প্রসঙ্গও উঠবে এটা বলাই বাহুল্য।
অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক এবং গোয়েন্দা সম্মেলনের ফাঁকে তুলসী গ্যাবার্ড ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি যা বলেছেন, তাতেই বাংলাদেশের হৃদকম্পন বেড়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। তুলসী পরিস্কার বলেন, শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের অরাজক চরিত্র নিয়ে তিনি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। সেই সঙ্গে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরেই তুলসী বলেন, গোটা বিশ্বে ‘ইসলামিক জঙ্গি কার্যকলাপ’ রুখতে বদ্ধপরিকর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুলসী আরও বলেছেন, ভারতের প্রতিবেশী দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সহ সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত হচ্ছেন। নির্যাতন, খুন করা হচ্ছে তাঁদের। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন আমেরিকা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরণের উদ্বেগ বরাবরই ভারত করে আসছে। এমনকি ঢাকাকে নানাভাবে ভারত সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার পরামর্শও দিয়ে এসেছে। কিন্তু ইউনূস প্রশাসন তা মানতে নারাজ। এবার মার্কিন গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড নিজেও একই বার্তা দিলেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং উদ্বিগ্ন। ফলে অচিরেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ যে নেওয়া হতেই পারে এটা তাঁরই পুর্বাভাস।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post