ফের কুকীর্তি ফাঁস। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার জন্য ২০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন একজন চিকিৎসক। এই ঘুষ নিয়েছেন একজন সমন্বয়কারী, তার ভাই এবং তার সঙ্গীরা। এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে।
বাংলাদেশের একজন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসাবে গ্রামীণ ব্যাংকের নূরজাহান বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতের খুব একটা উন্নতি ঘটেনি বলে অভিযোগ। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেহাল অবস্থা, স্বাস্থ্য বিভাগে অরাজকতা সামনে আসে। এমন অভিযোগ অনেকদিন থেকেই চলে আসছে। আর এর মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এটা কার্যত অবাক করে দিয়েছে প্রত্যেককে। জানা যাচ্ছে, একজন সমন্বয়কের ভাইয়ের পরিচয় দিয়ে আরও কয়েকজন সঙ্গী মিলে ২০০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন একজন চিকিৎসকের থেকে। এখন প্রশ্ন, সেই চিকিৎসক কে? জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের সাবেক পরিচালক। তার নাম শেখ গোলাম মোস্তফার। তিনি ২০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হওয়ার জন্য। প্রথমে এক সমন্বয় গ্রুপ কে ১০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ২০০ কোটি টাকার চারটি চেক দিয়েছেন।এমনই গুরুতর অভিযোগ।
আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলার চেষ্টা করেছেন ওই চিকিৎসক। নাম উঠে এসেছে সমন্বয়ক আরিফিনের ভাই আরিফুল ইসলাম এবং সঙ্গে তিন জন। একজনের নাম জানা গিয়েছে, সবুজ। তিনি জাতীয় পার্টির নেতার পরিচয় দিয়েছিলেন। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। সমন্বয়ক আরিফিনের নাম উঠে এসেছে। আরিফিনের ভাই আরিফুল ইসলাম এই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
অভিযোগ অনুসারে জানা যাচ্ছে, ড. মোস্তফা ১০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ২০০ কোটি টাকার চারটি চেক প্রদান করেছেন। এই লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জড়িত, যিনি নিজেকে সমন্বয়ক আরিফিনের ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। আরিফুল ইসলাম সরাসরি ড. মোস্তফার চেম্বার থেকে চেকগুলো সংগ্রহ করেন। যদিও আরেফিন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, তিনি ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে এই সমঝোতা নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
ডাঃ শেখ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, তার বাড়ি গোপালগঞ্জে। সেই কারণে নাকি তাকে ভয় দেখিয়েছে। এমনকি তিনি নাকি বলেছেন, তাদের কথা যদি তিনি না মানেন, তাহলে তাকে মামলা দেওয়া হবে। সেই ভয়ে তিনি নাকি কাজটি করেছেন। তিনি যদিও এখন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক।
এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপদেষ্টা পদ অনেক বেশি লাভজনক। সেই কারণেই একজন চিকিৎসক এত বিপুল পরিমাণে টাকা দিয়ে সেই পদ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও জানা যাচ্ছে, ড. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।












Discussion about this post