বিশ্ব শান্তিতে নোবেল জয়ী ডক্টর মহম্মদ ইউনুস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদে আসার পর তিনি মনে করেছিল পাকিস্তান ও আমেরিকার সহায়তায় তিনি ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু যখনি আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নির্বাচনের জন্য ইউনুসকে চাপ দেওয়া শুরু করল তখন তা বুঝে ইউনুস জামাত – ই – ইসলামী ও বিএনপি এর সাথে বৈঠক করা শুরু করল। জামাত চাইত ক্ষমতায় থাকুক ইউনুস অন্যদিকে বিএনপি চাইত দ্রুত নির্বাচন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ইউনুস বিএনপির সাথে সমঝোতা করে। এর মাঝে তারেক জিয়ার সাথে লন্ডনে গিয়ে দেখা করে আসে ইউনুস। ইউনুস সহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের সেফ এক্সিট দিতে হবে এবং নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণ করা যাবে না, আওয়ামীলীগের কার্যক্রম তুলবো না এ সকল চুক্তির মাধ্যমে এখন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইউনুস। ইউনূসের পাতানো নির্বাচনের ফলে যে সরকার আসবে সেই সরকারকে টেকানও কঠিন হয়ে যাবে। কারণ ওই সরকারের ছায়া হয়ে আমেরিকা বেশিদিন থাকবে না। থাকলেও থাকতে পারে পাকিস্তান। ভারতের সাথে আমেরিকার আবারও ভালো সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। সম্প্রতি ভারত – আমেরিকার প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তিতে ভারত আমেরিকা থেকে ৯.৩ মিলিয়ন ডলারে অস্ত্র কিনছে। যা ভারতীয় টাকায় ৮২৫ কোটি টাকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইচ্ছা জানিয়েছেন ফেব্রুয়ারি – মার্চে ভারতে সফরে আসার জন্য। এ থেকেই স্পষ্ট যে আমেরিকা চাইছে ভারতের সাথে আবারও ভালো সম্পর্ক তৈরী করতে। সাথে ভারতের সাথে চীনেরও ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠছে। অন্যদিকে রাশিয়ার সাথে তো ভারতের সম্পর্ক তুঙ্গে। সুতরাং বিশ্বের তিনটে পড়া শক্তিই এখন ভারতের হাতে। তাই এই ভারতকে কোনোভাবেই কূটনৈতিক চাপে ফেলা সম্ভব না। আর সেখানে তো বাংলাদেশ অতি ক্ষুদ্র একটি দেশ।
তাই বাংলাদেশ যতই পাকিস্তানের সাপোর্ট নিক, যতই পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উচ্চপদস্থ কর্তাদের দেশে সফরে আনুক না কেন তাতে আখিরে কোনও লাভই নেই। যেখানে পাকিস্তানের নিজেদেরই গৃহযুদ্ধ লেগে রয়েছে, তারা নিজেরাই নিজের দেশের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দেশ চালায় সেই গাদ্দার পাকিস্তানের সহায়তায় বাংলাদেশীই অবশেষে বিপদে পড়বে। পরবর্তী যে সরকারই আসুক না কেন বাংলাদেশে সে যদি মনে করে পাকিস্তানের সহায়তায় ক্ষমতায় থাকতে চায় তাহলে তা হবে মস্ত বড় ভুল। কারণ ইতিমধ্যেই আমেরিকা বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশে তারা যা হাসিল করার জন্য ভেবে ছিল তা হবে না। কারণ সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে ভারত, চীন ও রাশিয়া। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়াও হাত ছাড়া হয়ে যাবে। তাই অল্প স্বার্থের জন্য বৃহৎ স্বার্থ হারাতে রাজি না আমেরিকা। বেশি বাংলাদেশ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভারত এগ্রেসিভ পদক্ষেপ নেবে। তখন তা হয়ে উঠবে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যার কারণ। কারণ চীন কখনই আমেরিকাকে সাপোর্ট করবে না সাথে রাশিয়া তো সাপোর্ট করবেই না। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটা যুদ্ধ লাগানোর চেষ্টা হলেও তা বুঝে গিয়েছে ভারত ও চীন ফলে তারা যুদ্ধ না করে আমেরিকার ক্ষমতাই খর্ব করে ফেলেছে। তাই আমেরিকা দ্রুত ভারতের সাথে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করছে। মাঝ খান ভারে মা ভবানী হয়ে গিয়েছে ইউনুস। ফলে সে হাত মিলিয়েছে পাকিস্তানের সাথে। তাই ইউনুস ও খলিলুর কূটনৈতিক চাল চালার চেষ্টা করছে। ভারত যেখানে তাবড় তাবড় দেশের কূটনৈতিক চাল ভেঙে ফেলেছে সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি দেশের চাল ভাঙ্গতে ভারত এক সেকেন্ড ও সময় নেবে না। তাই যতই চাল চালুক ইউনুস আর খলিলুর ভারতের সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত।
দু দিন পর হোক বা দু বছর আওয়ামীলীগ আবারও স্বমহিমায় বাংলাদেশে পুনর্গঠন হবে। ভারত সকল কিছু লিস্ট করে রেখেছে সময় মতো সব ফেরত দেবে। তাই যারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে লাফাচ্ছেন যে নির্বাচনের পর তারা ক্ষমতায় আসবেন, ক্ষমতায় এলে আওয়ামীলীগকে আরও কোনঠাসা করে দেব তারা তাদের ভান্ত্র ধারণা থেকে বেরোন। তাই আওয়ামীলীগ আগের থেকেও ১০ গুন শক্তি নিয়ে ফেরত আসবে বাংলাদেশে।












Discussion about this post